spot_img

― Advertisement ―

spot_img

আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলায় সরকারের সায় নেই: মির্জা ফখরুল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ অবস্থায় থাকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর কার্যালয় খুলতে দেখা গেলেও এ বিষয়ে সরকারের কোনো অনুমোদন...
প্রচ্ছদসারা বাংলাসাত খুন মামলার আইনজীবী বিএনপি নেতা সাখাওয়াত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক

সাত খুন মামলার আইনজীবী বিএনপি নেতা সাখাওয়াত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আলোচিত সাত খুন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি–এর আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান। ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেয়।

নারায়ণগঞ্জ শহরের উকিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা ৫৮ বছর বয়সী সাখাওয়াত হোসেন খানের রাজনৈতিক হাতেখড়ি ছাত্রদলের মাধ্যমে। আশির দশকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর ‘খাল কাটা কর্মসূচি’ ও ‘হ্যাঁ–না’ গণভোটের সময় পোস্টার লাগানোর মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। ১৯৮০-৮১ সালে তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলা যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন।

পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজে পড়ার সময় ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করেন। নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজ থেকে এলএলবি পাস করে আইন পেশায় যুক্ত হন এবং পরে জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপির সহ–আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও দুই মেয়াদে সভাপতি ছিলেন। ২০১৬ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী–এর কাছে পরাজিত হন।

২০১৪ সালের আলোচিত নারায়ণগঞ্জ সাত খুন মামলার পর সাখাওয়াত হোসেন খান দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন। খুনের বিচার ও অভিযুক্ত র‍্যাব কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তিনি উচ্চ আদালতে রিট করেন। ওই রিটের পর সংশ্লিষ্ট র‍্যাব কর্মকর্তারা গ্রেপ্তার হন। পরবর্তী সময়ে তিনি মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে আইনি লড়াই চালিয়ে যান। শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধেও তিনি আইনি পদক্ষেপে সক্রিয় ছিলেন।

সাখাওয়াত হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, “বিগত সরকারের আমলে আমি ছয় থেকে সাতবার জেল খেটেছি। এমনকি আমার ছেলেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক কারণে আমার বিরুদ্ধে ৭২টি মামলা করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সব মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছি।” তিনি দাবি করেন, ভয়ভীতি বা প্রলোভন কোনো কিছুই তাঁকে আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।

আরও পড়ুনঃ পিলখানা বিডিআর বিদ্রোহ পুনঃতদন্তে নতুন কমিশন গঠনের ঘোষণা

প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে প্রাথমিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ৫০ থেকে ৬০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে একটি টেকসই মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে চান। তাঁর লক্ষ্য নারায়ণগঞ্জকে আধুনিক ও পরিকল্পিত বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলা। শহরের যানজট, ধুলাবালু, কিশোর গ্যাং দমন, শীতলক্ষ্যা নদীর দুই পাড়ের বিভক্তি দূর করা এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর নির্দেশনা অনুযায়ী দল–মত–ধর্ম–বর্ণনির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করবেন। নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত একটি বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

মুন্সিগঞ্জের ব্যবসায়ী ফজল খান ও হোসনে আরা খানম দম্পতির তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন খান সবার বড়। তাঁর স্ত্রী শামীমা আক্তার আইনজীবী এবং ছেলে শাহরিয়ার খান লন্ডনে পড়াশোনা করছেন।

নারায়ণগঞ্জকে শিল্প ও বাণিজ্যনির্ভর গুরুত্বপূর্ণ শহর উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় আয়ের একটি বড় অংশ এই শহর থেকে আসে। অথচ অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও সড়কনির্ভর অবকাঠামোর কারণে নাগরিক ভোগান্তি বাড়ছে। কিশোর গ্যাং, মাদক, ফুটপাত দখল ও যানজটসহ নানা সমস্যার সমাধানে স্বল্পমেয়াদি কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। তাঁর আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।