

মোঃ বিপুল মিয়া, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মাঠপর্যায়ের অন্যতম সক্রিয় নেতা সবুজ মিয়া দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি দলীয় অনিয়ম, অবমূল্যায়ন এবং স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলেছেন।
গত ২০ জুলাই উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। একই সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর এর অনুলিপিও পাঠানো হয়।
পদত্যাগপত্রে সবুজ মিয়া উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিষ্ঠা, সততা ও সক্রিয়তার সঙ্গে ফুলবাড়ী উপজেলায় এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। জাতীয় নির্বাচনের আগে দলের মনোনীত প্রার্থী ড. আতিক মুজাহিদ–এর পক্ষে দিন-রাত পরিশ্রম করে ভোট ও জনসমর্থন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তাঁর সেই ত্যাগ ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান উপজেলা কমিটিতে এমন কিছু সুবিধাবাদী ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাদের দলের প্রতি পূর্বের কোনো উল্লেখযোগ্য অবদান বা ত্যাগ নেই।
পদত্যাগপত্রে সবুজ মিয়া দাবি করেন, দলের মূল নীতি ও আদর্শ থেকে সরে গিয়ে স্থানীয়ভাবে নিষ্ক্রিয় ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের মতো বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। একজন আদর্শিক কর্মী হিসেবে এসব কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ রাজনীতি থেকে গবেষণাগারে—গবেষণা অনুদান পেলেন জবি ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার
তিনি বলেন, অবমূল্যায়ন, সাংগঠনিক অনিয়ম ও আদর্শিক বিচ্যুতি তাঁর রাজনৈতিক চেতনা ও বিবেককে গভীরভাবে আহত করেছে। এমন অগণতান্ত্রিক ও নীতিহীন পরিবেশে রাজনীতি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলেই তিনি দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়ের সব সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক নাজমুল ফেরদৌস (লাভলু) বলেন, “আমি অনলাইনে পদত্যাগপত্রটি দেখেছি। তবে এখনো মূল কপি হাতে পাইনি।”
পদত্যাগপত্রে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে জেলা নেতৃবৃন্দই বিস্তারিত বলতে পারবেন।”