― Advertisement ―

spot_img

ইবি শিক্ষিকা হত্যার বিচার চেয়ে শিক্ষকদের মৌন মিছিল

তাওহিদ ইসলাম, ইবি প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার চেয়ে মৌন মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে...
প্রচ্ছদশিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনক্যাম্পাসইবি শিক্ষিকা হত্যার বিচার চেয়ে শিক্ষকদের মৌন মিছিল

ইবি শিক্ষিকা হত্যার বিচার চেয়ে শিক্ষকদের মৌন মিছিল

তাওহিদ ইসলাম, ইবি প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার চেয়ে মৌন মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সামনে থেকে মৌন মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সেখানে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

এসময় রুনা হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. গাজী মাহবুব মুর্শিদ, অধ্যাপক ড. মনজুর রহমান, অধ্যাপক ড. রোজী আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক ড. তিয়াশা চাকমা, আল হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোজাহিদুর রহমান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. গফুর গাজী, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারহা তানজিম তিতিল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও ভূগোল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইনজামুল হক সজল ও অন্য শিক্ষকসহ শতাধিক শিক্ষার্থী।

এসময় শিক্ষার্থীদের হাতে আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচার চাই, বিচারহীনতার চর্চা বন্ধ করো, নিরপেক্ষ তদন্ত চাই প্রভাবমুক্ত বিচার চাই এসব প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

অধ্যাপক মোজাহিদুর রহমান বলেন, আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তার সততা, নৈতিকতা এবং তার দায়িত্ববোধের সাথে অন্যায়ের দ্বন্দ্বের কারণেই তাকে জীবন দিতে হয়েছে। তিনি যখন স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতায় আনতে চাইলেন তখনই তাকে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হলো। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

অধ্যাপক মাহবুব মোর্শেদ বলেন, এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়ানোর জন্য কেউ প্রস্তুত ছিলেন না, তবে অন্যায়ের প্রতিবাদে সামনে আসতে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আরও শক্ত ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ প্রত্যাশা করা হয়েছিল। এই প্রতিবাদ কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি ন্যায়বিচারের দাবি।

তিনি দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করার ও কাউকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো বা প্রকৃত অপরাধীকে রক্ষা না করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রুনার পরিবার, বিশেষ করে তার চার সন্তানের জন্য দ্রুত আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার দাবি জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা, গ্রেফতার রিয়াদ

প্রসঙ্গত, গত ৪ মার্চ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় পরদিন ইবি থানায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন নিহতের পরিবার। পরদিন আসামি ফজলুর রহমানকে গ্রেফতার দেখায় ইবি থানা পুলিশ।

অন্য আসামিরা হলেন সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। ঘটনার এতদিন পরেও প্রধান আসামি ফজলুর রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।