― Advertisement ―

spot_img

ইবিতে সাজিদ হত্যার এক বছর: স্মরণে শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী আয়োজন

তাওহিদ ইসলাম, ইবি প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের এক বছর অতিবাহিত হওয়ায় স্মৃতিচারণ, দোয়া ও মাগফিরাত কামনায় ‘স্মরণে শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ’...
প্রচ্ছদশিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনক্যাম্পাসরুনা হত্যার বিচারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশ সুপার কার্যালয় ঘেরাও

রুনা হত্যার বিচারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশ সুপার কার্যালয় ঘেরাও

তাওহিদ ইসলাম, ইবি প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচারের দাবিতে কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ ও পুলিশ সুপার কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং নিহতের পরিবার।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর গেইটে এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে রুনার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এসময় নিহত শিক্ষকের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান, সন্তানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মামলার আসামি বিশ্বজিৎ ও শ্যাম সুন্দর হাইকোর্টে ঘুরে বেড়ালেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তারা প্রশ্ন তুলে বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী অধ্যাপকের যদি ন্যূনতম নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়। তারা আরও বলেন, একজন শিক্ষকের চারটি অবুঝ সন্তান রয়েছে, তাদের কথা বিবেচনায় নিয়েও এখন পর্যন্ত আসামিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান অভিযোগ করে বলেন, তার স্ত্রী মৃত্যুর আগে যে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন, মৃত্যুর পরও সেই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেন, বিভাগের অর্থ তছরূপসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লিখিত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের নীল নকশা বাস্তবায়নে কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন বলে তার সন্দেহ রয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি ছিল, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করেন। পরে পরিবার ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শওকত মো. হাসান ইমামের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুনঃ রূপগঞ্জে রংধনু গ্রুপের মালিকের বিরুদ্ধে জমি দখল ও ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ

বৈঠক শেষে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি সোহান জানান, হত্যাকাণ্ডের এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো নতুন আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশ্বাস দিয়েছেন যে, প্রধান আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে বাকি আসামিদের সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে মূল ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা যে ধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছিলেন, এখন পর্যন্ত তার দৃশ্যমান কোনো প্রতিফলন পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতেও সহযোগিতা না পেলে ভিসি কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় পরদিন ইবি থানায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে নিহতের পরিবার। পরদিন ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান।