

মো: আলিফ হোসাইন, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (TEAA) এবং টেক্সটাইল ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে ‘AI in Textile and Fashion Industry’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-৩ এর সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাভাবিপ্রবির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অমিত সরকার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জার্মানির Hochschule Niederrhein University of Applied Sciences-এর টেকনিক্যাল টেক্সটাইলস বিষয়ে স্নাতকোত্তর গবেষক মো. শরিফুর রহমান রাকেশ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবু বকর সিদ্দিকী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, “বিশ্ব পরিবর্তনশীল, ফ্যাশনও পরিবর্তনশীল। তাই বিশ্বের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে টেক্সটাইল প্রযুক্তিকে যুগোপযোগী করতে হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি টেক্সটাইল ও ফ্যাশন শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।”
তিনি বলেন, “উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, বাজার বিশ্লেষণ এবং ফ্যাশন ডিজাইনের ক্ষেত্রে AI-এর ব্যবহার শিল্পখাতকে আরও দক্ষ, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই করে তুলছে। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞানে সীমাবদ্ধ না থেকে আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী দক্ষতা অর্জন করতে হবে।”
আরও পড়ুনঃ চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় অনিশ্চয়তায় বুটেক্সের পাঁচ আউটসোর্সিং কর্মী
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এমন উদ্যোগকে সবসময় উৎসাহিত করবে, যা শিক্ষার্থীদের শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করবে এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করবে।
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, বিভাগটিকে নতুনভাবে ও ভিন্ন আঙ্গিকে সাজানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ বিভাগ দেশের অন্যতম যুগোপযোগী বিভাগ হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সেমিনারে বক্তারা টেক্সটাইল ও ফ্যাশন শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, মার্চেন্ডাইজিং, উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাইসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, সেমিনারটি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর টেক্সটাইল শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নতুন ধারণা ও আগ্রহ তৈরি করেছে।