― Advertisement ―

spot_img

চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় অনিশ্চয়তায় বুটেক্সের পাঁচ আউটসোর্সিং কর্মী

বুটেক্স প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান সামাইরা জবস ব্রিজ লিমিটেডের অধীনে কর্মরত পাঁচজন কর্মচারীর চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় এক বছর পরও...
প্রচ্ছদশিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনক্যাম্পাসচুক্তি নবায়ন না হওয়ায় অনিশ্চয়তায় বুটেক্সের পাঁচ আউটসোর্সিং কর্মী

চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় অনিশ্চয়তায় বুটেক্সের পাঁচ আউটসোর্সিং কর্মী

বুটেক্স প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান সামাইরা জবস ব্রিজ লিমিটেডের অধীনে কর্মরত পাঁচজন কর্মচারীর চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় এক বছর পরও তা নবায়ন হয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না তারা। দীর্ঘদিন ধরে চুক্তি নবায়ন ঝুলে থাকায় কর্মীরা যেমন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন, তেমনি নিজস্ব অর্থায়নে বেতন পরিশোধ করতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটিও।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম সচল রাখতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, অফিস সহায়তা ও কারিগরি সহায়তাসহ বিভিন্ন সেবামূলক কাজে এসব কর্মী দায়িত্ব পালন করেন। নির্দিষ্ট সময়ের চুক্তির মাধ্যমে জনবল নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত কর্মী নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়।

সামাইরা জবস ব্রিজ লিমিটেডের মাধ্যমে বর্তমানে বুটেক্সে মোট ১৪ জন কর্মী কাজ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির দুটি পৃথক চুক্তি রয়েছে। এর মধ্যে রেজিস্ট্রার দপ্তরের অধীনে থাকা একটি চুক্তি চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কার্যকর রয়েছে, যার আওতায় নয়জন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে থাকা আরেকটি চুক্তির মেয়াদ গত বছরের জুনে শেষ হয়ে যায়। এই চুক্তির অধীনে থাকা পাঁচজন কর্মীকে কাজে বহাল রাখতে প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল এবং দ্রুত চুক্তি নবায়নের কথা জানানো হয়। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি কর্মীদের দায়িত্বে বহাল রাখে।

তবে ২০২৫ সালের জুনে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে বারবার চেষ্টা করেও চুক্তি নবায়ন করতে পারেনি সামাইরা জবস ব্রিজ লিমিটেড। বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি আউটসোর্সিং কর্মী সরবরাহ করে আসছে।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের ভিত্তিতে তারা ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত টানা ১১ মাস নিজস্ব অর্থায়নে কর্মীদের বেতন পরিশোধ করেছে। প্রথমে জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাস বেতন দেওয়ার পর চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় নবম মাস থেকে নিজস্ব খাত থেকে বেতন দেওয়া বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বকেয়া বিল পরিশোধ ও চুক্তি নবায়নের আশ্বাস দেওয়া হলে ঈদসহ কর্মীদের আর্থিক সংকট বিবেচনায় আরও তিন মাসের বেতন বহন করে প্রতিষ্ঠানটি।

চুক্তি নবায়নের জন্য কর্মীদের বারবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কক্ষের বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তারা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রথম দিকে দুই বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন হলেও পরবর্তীতে কয়েক মাস পরপর স্বল্প সময়ের জন্য নবায়ন করা হয়েছে, যা বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, চুক্তি নবায়নের জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে আবেদন করে আসছিল। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মতির কথা জানিয়ে নতুন চুক্তিপত্র দেওয়া হয়। তারা দ্রুত স্বাক্ষর করে চুক্তিপত্র পরিকল্পনা উন্নয়ন বিভাগের সহকারী পরিচালক হোসাইন মোহাম্মদ আকবরের কাছে জমা দেন। তখন জানানো হয়েছিল, পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ মো. মামুন কবির এবং অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালকের অনুমোদন শেষে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। তবে তিন মাস পার হলেও এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন সম্পন্ন হয়নি।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই কর্মীদের কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় এক বছর পার হয়ে গেলেও চুক্তি নবায়ন কিংবা বকেয়া বিল পরিশোধ—কোনোটিই বাস্তবায়ন হয়নি।

এদিকে ২০২৫ সালের জুন থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় আউটসোর্সিং কর্মীরা উৎসব ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ বুটেক্সের ৪১ থেকে ৪৭তম ব্যাচের আইটিইটি সদস্যদের সঙ্গে জিজি প্যানেলের মতবিনিময়

বেতন বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে সংকটে পড়েছেন কর্মচারীরা। কর্মী নাজমুল বেপারী বলেন, তাদের বেতন, বৈশাখী ভাতা ও বোনাস পাওয়ার কথা থাকলেও তারা কিছুই পাচ্ছেন না। তিনি দ্রুত চুক্তি নবায়ন ও প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

আরেক কর্মী শিল্পী বেগম বলেন, অন্যরা বোনাস পেলেও তারা কেন বঞ্চিত হচ্ছেন তা বুঝতে পারছেন না। পাঁচ বছর ধরে কাজ করেও তারা ন্যায্য সুবিধা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে বুটেক্সের পরিকল্পনা উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক ড. শেখ মো. মামুন কবির বলেন, “আমরা চুক্তি নবায়ন করতে চাই। ইউজিসির সঙ্গে কথা হয়েছে, বাজেট টিমকেও জানানো হয়েছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। রেজিস্ট্রার অফিসের মাধ্যমে সেই অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বর্তমানে রেজিস্ট্রার সেকশন ইউজিসি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিষয়টি অনুসরণ করছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি এখন সরকারি বাজেট অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না এলে বকেয়া পরিশোধ ও চুক্তি নবায়নের কার্যক্রম সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়বে।