

আলি উল আজিম নিলয়, জবি প্রতিনিধিঃ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরুর দুই দশক পার হলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) এখনো গঠিত হয়নি সব বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোনো কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে আলোচনা ও উদ্যোগ থাকলেও কার্যকর কোনো কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে ওঠেনি। ফলে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন বিভাগে অ্যালামনাই সংগঠন গড়ে উঠলেও পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের একক প্ল্যাটফর্মে আনতে পারে—এমন কোনো কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বিভাগগুলো নিজ নিজ পরিসরে পুনর্মিলনী, সংবর্ধনা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও কেন্দ্রীয় সংগঠন না থাকায় সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগও সীমিত হয়ে আছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কেন্দ্রীয় ও গ্লোবাল অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ‘JnU Global Alumni Network (JnUGAN)’-এর ওয়েবসাইট উদ্বোধন করা হয়। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে থাকা সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও নেটওয়ার্কিং তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)-এর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের উদ্যোগে এবং জবি আইটি সোসাইটি ও সিএসই ক্লাবের যৌথ সহযোগিতায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি চালু করা হয়। তবে এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত আনুষ্ঠানিক কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বিকল্প নয়।
কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন না থাকায় জবির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে।
জবির ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদুর রহমান সানি বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স ২০ বছর হয়ে গেলেও এখনো কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই না থাকাটা হতাশাজনক। দেশের বিভিন্ন জায়গায় এবং বিদেশে জবির অনেক সাবেক শিক্ষার্থী গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন। তাঁদের একটি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা গেলে বর্তমান শিক্ষার্থীরাও বিভিন্নভাবে উপকৃত হবে।”
জবির ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবিদ হাসান বাধন বলেন, “বাংলাদেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যালামনাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সাবেক শিক্ষার্থীরা চাকরি বা ইন্টার্নশিপের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করেন। জবিতে এমন সংগঠিত কাঠামো না থাকায় আমরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।”
জবির ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী হারুন উর রশিদ বলেন, “আমরা যখন পাস করে বের হয়ে যাই, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার তেমন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জায়গা থাকে না। শুধু নিজের বিভাগের গ্রুপ বা পেজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হয়। একটা কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই থাকলে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা এক জায়গায় যুক্ত হতে পারতাম।”
আরও পড়ুনঃ জবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত
তবে কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের বিষয়ে আশার কথা জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।
তিনি বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন দ্রুতই গঠন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত সাবেক শিক্ষার্থীদের একত্রিত করার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমে সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা, বর্তমান শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ও গবেষণায় সহযোগিতা এবং দেশ-বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে একটি কার্যকর অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত সাবেক শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও পেশাগত যোগাযোগ বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্যও কাজে লাগানো সম্ভব।