― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদশিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনক্যাম্পাসজবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

জবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

আলি উল আজিম নিলয়, জবি প্রতিনিধিঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ইতিহাস বিভাগের উদ্যোগে ‘ফিরে দেখা ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাসব্যাপী জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক আয়োজনের অংশ হিসেবে এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের আয়োজনে ‘মননে জুলাই’ শীর্ষক প্রথম সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ইতিহাস বিভাগের উদ্যোগে এ সেমিনার আয়োজন করা হয়।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টার দিকে শুরু হয় এর আনুষ্ঠানিকতা।

ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শহীদ কাদের চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন। এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ করে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের জন্য দোয়া করেন।

তিনি বলেন, “জুলাই কিন্তু একদিনে হঠাৎ করে সংঘটিত হয়নি। এটি ছিল দীর্ঘ ১৭ বছরের শোষণ-বঞ্চনার প্রতিরোধ। এটি ছিল অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। জুলাই দল-মতনির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে সফল হয়েছে। আমরা এখানে কোনো ভেদাভেদ চাই না। আমাদের এই সার্বজনীন অংশগ্রহণ ফিরে দেখতে হবে। বাস্তবতা স্বীকার করতে হবে।”

উপাচার্য আরও বলেন, “জুলাই যে আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে হয়েছিল, আজ দুই বছর পরও আমরা সেই চাওয়াগুলোর পুরোপুরি বাস্তবায়ন দেখতে পাইনি। আমরা এখনো ক্রেডিটবাজি দেখতে পাচ্ছি। আমি বলব, জুলাইকে ফিরে দেখতে হবে, মনে রাখতে হবে। সবাইকে একসঙ্গে জুলাইয়ের পক্ষে কাজ করতে হবে। সজাগ থাকতে হবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত সফলতা তখনই আসবে, যখন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ন্যায়বিচারভিত্তিক ও মানবিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হলে ভবিষ্যতে আর কোনো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রয়োজন হবে না।”

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক নাছির আহমাদ। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করে বিশ্লেষণ করেন।

আরও পড়ুনঃ ২০২৭ সালের এসএসসি জানুয়ারির পরিবর্তে মার্চে নেওয়ার চিন্তাভাবনা

তিনি বলেন, “আমি এই আন্দোলনকে তিনটি পর্যায়ে দেখি। প্রথমত, জুন মাসে কোটা সংস্কারের উদ্যোগে আন্দোলন শুরু হলেও ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে তা কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ১ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত আন্দোলনটি একটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে গেছে। এ সময়ে আমরা বাংলা ব্লকেডসহ বিভিন্ন নামে নানা কর্মসূচি দেখতে পেয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “এরপর ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা যখন ছাত্র-জনতাকে ‘রাজাকারের নাতি-পুতি’ বলে সম্বোধন করেন, তখনই তিনি ছাত্র-জনতাকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দেন। তৎক্ষণাৎ ওই দিন রাতে সব ক্যাম্পাসে ছাত্র-জনতার মুখে মুখে উচ্চারিত হতে শুরু করে—‘তুমি কে, আমি কে; রাজাকার, রাজাকার। কে বলেছে, কে বলেছে; স্বৈরাচার, স্বৈরাচার।’ এরপর থেকেই মূলত এই আন্দোলন শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলনের দিকে ধাবিত হতে শুরু করে।”

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাসান মফিজুর রহমান। সেমিনারে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জুলাই যোদ্ধা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।