
আলি উল আজিম নিলয়, জবি প্রতিনিধিঃ প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও দ্বিতীয় সমাবর্তনের অপেক্ষা শেষ হয়নি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রায় ২১ হাজার শিক্ষার্থীর। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরুর পর ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হলেও এরপর ছয় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। দীর্ঘ এ সময়ে দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজন করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করা প্রায় ২১ হাজার শিক্ষার্থী সম্ভাব্য দ্বিতীয় সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এর মধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের পাশাপাশি এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীরাও থাকবেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৪ বছর পর ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। পুরান ঢাকার ধূপখোলা মাঠে আয়োজিত ওই সমাবর্তনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ উপস্থিত ছিলেন। এতে বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের প্রায় ১৯ হাজার গ্র্যাজুয়েট অংশ নেন।
প্রথম সমাবর্তনের পর দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২২ সালেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় সমাবর্তনের নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানা গিয়েছিল। সে সময় ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ডিগ্রিধারীদের নিয়ে সমাবর্তন আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম শেষ হওয়ায় সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও বেড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত সাত শিক্ষাবর্ষের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার যোগ্য হতে পারেন। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ২১ হাজার।
সমাবর্তনের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে হতাশাও রয়েছে। তাঁদের মতে, সমাবর্তন শুধু সনদ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের অর্জনের স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী তানজীদ মাহমুদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শেষ স্বপ্নগুলোর একটি হচ্ছে সমাবর্তনে অংশ নেওয়া। শুধু গাউন-টুপি পরে ছবি তোলার বিষয় নয়, এটি একজন শিক্ষার্থীর দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের স্বীকৃতির সঙ্গে জড়িত। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত দ্বিতীয় সমাবর্তনের উদ্যোগ নিক।”
সমাবর্তন অনুষ্ঠিত না হলেও প্রয়োজনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে মূল সনদ সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবর্তনের মাধ্যমে সনদ গ্রহণের সুযোগ না থাকায় অনেক সাবেক শিক্ষার্থীর মধ্যেই অপূর্ণতা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অনেকে জানান, পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরি ও উচ্চশিক্ষার কারণে তাঁদের অনেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও বিদেশে অবস্থান করছেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সমাবর্তন হলে তাঁদের আবারও ক্যাম্পাসে ফেরার সুযোগ তৈরি হবে।
আরও পড়ুনঃ সরকারি ব্রজলাল কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির উপস্থিতির সঙ্গে সমাবর্তনের নিরাপত্তা ও সময়সূচির বিষয়টি সরাসরি জড়িত। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আগামী বছরের ৩০ জানুয়ারি দ্বিতীয় সমাবর্তনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠান আয়োজনের চেষ্টা থাকবে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে তারিখ পরিবর্তন হতে পারে।
তিনি আরও জানান, সমাবর্তন আয়োজনের জন্য ভেন্যু, নিরাপত্তা, সনদ প্রস্তুত, নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো আগেভাগে পরিকল্পনা করতে হবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সমাবর্তনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে শিক্ষার্থীদের ফলাফল যাচাই, সনদ প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রায় ২১ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন কবে অনুষ্ঠিত হবে—এখন সেটিই বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান আগ্রহের বিষয়।



