

আলি উল আজিম নিলয়, জবি প্রতিনিধিঃ ‘শিক্ষার অধিকার ফিরে চাই’ শিরোনামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা নিষিদ্ধ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা এবং সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়িয়ে মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হয় বলে জানান আয়োজকরা।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে জজ কোর্ট রোডে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা, ক্যাম্পাসে সব মতের শিক্ষার্থীর সহাবস্থান এবং সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া বজায় রাখার দাবি জানান।
মিছিলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ বলেন, কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা থেকে নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার ‘শিক্ষার অধিকার’ প্রতিষ্ঠার দাবিতে তারা কর্মসূচি পালন করছেন। একই সঙ্গে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে দলীয়করণের সুযোগ তৈরির অপচেষ্টারও প্রতিবাদ জানান তিনি।
মেসবাহ বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শে ভিন্নতা থাকলেও একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষা অর্জনের অধিকার কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। একজন শিক্ষার্থী প্রথমে শিক্ষার্থী, এরপর তার রাজনৈতিক পরিচয়। রাজনৈতিক আদর্শ বা সম্পৃক্ততার কারণে ছাত্রলীগের অনেক সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থককে ক্যাম্পাস থেকে দূরে রাখা হচ্ছে এবং তাদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়; এটি সাংবিধানিক অধিকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ‘মবের সংস্কৃতি’ দূর করে নিরাপদ ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সব মতের শিক্ষার্থীর জন্য ক্যাম্পাসে সহাবস্থান এবং বৈষম্যহীনভাবে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।
সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রসঙ্গে মেসবাহ অভিযোগ করেন, ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। তার দাবি, এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থায় দলীয়করণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ জবি ক্যারিয়ার ক্লাবের বিজনেস কেস প্রতিযোগিতা, পুরস্কার ২.৩৫ লাখ
অন্যদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা চান না; ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে চান। ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অবস্থানের কারণে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, পরীক্ষা দেওয়ার অধিকার, শিক্ষা সম্পন্ন করার অধিকার এবং সার্টিফিকেট পাওয়ার অধিকার কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়; এগুলো একজন শিক্ষার্থীর ন্যায্য অধিকার। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে এসব অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।
মেহেদী হাসান বলেন, ‘রাজনীতি যার যার, শিক্ষা সবার’—এই নীতিতে সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তারা করুণা নয়, নিজেদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
মিছিল থেকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সরকারি চাকরির নিয়োগে মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়া বজায় রাখার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।