

আলি উল আজিম নিলয়, জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৭তম ব্যাচের অনুষ্ঠানে খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ সমাধানে পৌঁছায় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিবৃতি অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পরপরই সহকারী প্রক্টরের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে মন্দিরসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতির প্রতি সমান শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি স্পষ্ট করেন তাঁরা। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগের একাডেমিক কমিটিকে অবহিত করা হয়। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা পৃথক বিবৃতিও দেন।
ঘটনার গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নিয়ে জরুরি সভার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সভায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য শোনা হয় এবং ঘটনার সার্বিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করা হয়। পরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের উদ্যোগে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মনে করে, ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতির প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সব ধর্মের মানুষের মর্যাদা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি সমুন্নত রাখতে প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আরও পড়ুনঃ জাপান প্রবাসী নারীর ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিকতা, সংযম ও দায়িত্বশীল ভূমিকার মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসে পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে বলে তারা আশাবাদী। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা ভুল-বোঝাবুঝি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে।
সভায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় পূজা উদ্যাপন পরিষদের প্রতিনিধি, প্রক্টর, রেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।