
রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে জুলাই সনদের সমন্বিত খসড়া প্রস্তুত করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এতে উল্লেখ করা হয়েছে—সনদের কোনো শব্দ, বাক্য ও নীতিমালা সংবিধান বা অন্য কোনো আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে সনদকে প্রাধান্য দেওয়া হবে এবং অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশগুলো জাতীয় নির্বাচনের আগেই কার্যকর করা হবে। দলগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সনদকে বিশেষ মর্যাদার পাশাপাশি আইনি ভিত্তি দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
খসড়ায় সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন, প্রধানমন্ত্রীর দলীয় প্রধান না হওয়া, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাসহ কিছু বিষয় সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। তবে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে দ্বিকক্ষের আইনসভা গঠনের বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ প্রধান উপদেষ্টা ও কমিশনের সভাপতি ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অগ্রগতি, খসড়া ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে অবহিত করেন। প্রধান উপদেষ্টার মতামতের ভিত্তিতে আজ শুক্রবারের মধ্যে দলগুলোর কাছে খসড়া পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আগামী সপ্তাহের মধ্যে তারা চূড়ান্ত মতামত জানাতে পারে।
সমন্বিত খসড়াটি তিন ভাগে বিভক্ত—প্রথম ভাগে পটভূমি ও কমিশনের কার্যক্রম, দ্বিতীয় ভাগে দলগুলোর ঐকমত্য হওয়া বিষয়, এবং শেষ ভাগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ৯ দফা অঙ্গীকারনামা। রাষ্ট্রভাষা, নাগরিকত্ব, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি পদের কাঠামো, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, স্থানীয় সরকার, বিচার বিভাগ, নির্বাচনব্যবস্থা, সাংবিধানিক সংস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বাধীন পুলিশ কমিশন ইত্যাদি বিষয়ে প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক বছর : অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ
বিভিন্ন প্রস্তাবে দলগুলোর মতানৈক্যও খসড়ায় স্পষ্ট করা হয়েছে। যেমন—রাষ্ট্রভাষা ও নাগরিকত্বের সংজ্ঞা, উচ্চকক্ষের প্রবর্তন, পিআর পদ্ধতি, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের পরিধি, সাংবিধানিক সংস্থায় নিয়োগ প্রক্রিয়া ইত্যাদি বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।
শেষ ভাগের ৯ দফা অঙ্গীকারনামায় সনদকে আইনগতভাবে সম্পূর্ণ কার্যকর ঘোষণা এবং এর বৈধতা আদালতে প্রশ্ন তোলার সুযোগ সীমিত রাখার প্রস্তাব রয়েছে। অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কারগুলো নির্বাচনের আগেই কার্যকর করার প্রতিশ্রুতিও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই এই জুলাই জাতীয় সনদ প্রস্তুত হচ্ছে। প্রথম ধাপের সংলাপে ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনায় ৬২টি প্রস্তাবে ঐকমত্য গড়ে ওঠে, আর দ্বিতীয় ধাপে ২০টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এসব প্রস্তাবই এখন চূড়ান্ত সনদের অংশ হতে যাচ্ছে।



