

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফলাফল প্রভাবিত করতে পারে—এমন কোনো ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা কারচুপির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, নির্বাচন ফলাফল পাল্টে দিতে পারে—এমন কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং তাদের পর্যবেক্ষণে আসেনি। তবে কারও অভিযোগ থাকলে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে বিদ্যমান।
ইইউ মিশনের মূল্যায়নে বলা হয়, ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনআস্থা কিছুটা পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে এবং সুশাসনের ভিত্তি শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক ছিল এবং ফলাফল প্রকাশ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রার্থীরা তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ পরিবেশে প্রচারণা চালাতে পেরেছেন এবং রাজনৈতিক বিষয়ে সংলাপের সুযোগও ছিল। অভিযোগগুলো দ্রুত ও গ্রহণযোগ্যভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।
আরও পড়ুনঃ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন
ভবিষ্যৎ নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়নে ১৯টি সুপারিশ দিয়েছে ইইউ। এর মধ্যে রয়েছে—ডিজিটাল মাধ্যমে নারীদের হয়রানি প্রতিরোধ, এক-তৃতীয়াংশ নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, প্রার্থীদের ব্যয়ের অডিট জোরদার করা এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব সুবিধা বাড়ানো।
সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি ৫৬ জন ও স্বল্পমেয়াদি ৯০ জনসহ মোট ২২৩ জন ইইউ পর্যবেক্ষক অংশ নেন। এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর এবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো।