

আলি উল আজিম নিলয়, জবি প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে জল্পনা চলছে। এরই মধ্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতারা বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ‘বিদায়ী’ সাক্ষাৎ করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্য দিয়ে ‘রাকিব-নাছির’ নেতৃত্বাধীন কমিটির বিদায়প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন কমিটির শীর্ষ পদে কারা আসছেন, তা নিয়ে সংগঠনের ভেতরে-বাইরে আলোচনা চলছে। এ তালিকায় এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান তিন নেতার নামও আলোচনায় এসেছে।
জবি ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের দাবি, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বে ঐতিহ্যগতভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক নেতৃত্বের প্রাধান্য দেখা যায়। আন্দোলন-সংগ্রামে জবি ছাত্রদলের ভূমিকা বিবেচনায় কেন্দ্রীয় শীর্ষ দুই পদের অন্তত একটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীদের একটি অংশ।
আলোচনায় কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত
সভাপতি পদে আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে বাসিত নেতাকর্মীদের একটি অংশের সমর্থন পাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক রাজনীতির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যায়েও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয়তা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল প্যানেলের প্রার্থীদের পক্ষে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও তাঁর সম্ভাবনার আলোচনায় এসেছে। দলীয় সূত্রের দাবি, টিম-৬-এর (বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম বিভাগ) টিমলিডার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী আইয়ুবুর রহমান তৌফিককে সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে বিজয়ী করতে ভূমিকা রাখেন। একই সঙ্গে হল সংসদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদেও ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থীরা জয় পান বলে দলটির নেতাকর্মীরা জানান।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগেও বাসিতের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তাঁদের দাবি, নেতৃত্ব বিকাশ ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক প্রশিক্ষণ, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক উদ্যোগ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, বৃক্ষরোপণ, প্রবীণদের সম্মাননা এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তার মতো কার্যক্রমে তিনি যুক্ত ছিলেন।
দলীয় সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক জীবনে বাসিত বিভিন্ন সময় মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর সায়েন্সল্যাব ও রামপুরা এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে অনুসারীরা জানান। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও টেলিভিশন টকশোতে দলের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার কারণেও তিনি পরিচিতি পেয়েছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি।
আলোচনায় মেহেদী হাসান হিমেল
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘিরে আলোচনায় রয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলও। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর জবি ছাত্রদলের নেতৃত্ব তাঁর হাতে দেওয়া হয়। এর আগে তিনি সংগঠনটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
হিমেলের অনুসারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজপথের কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকার বিষয়টি সামনে আনছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবং নিকলী সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন হিমেল। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনেও তিনি সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা যায়।
হিমেলের ঘনিষ্ঠদের দাবি, রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন সময় মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৮ অক্টোবর রাজপথের কর্মসূচি থেকে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর অনুসারীরা দাবি করেন।
আরও পড়ুনঃ ঢাবিকে হারিয়ে আন্তবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন বুটেক্স
জুলাই-আগস্টের আন্দোলনসহ বিভিন্ন সরকারবিরোধী কর্মসূচিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জানান। এসব রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে কেন্দ্রীয় কমিটিতে তাঁর নাম আলোচনায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনায় শামসুল আরেফিন
জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিনের নামও কেন্দ্রীয় কমিটির সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছে। এর আগে তিনি জবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সখিপুর পৌর ছাত্রদলের ৭ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, রাজনৈতিক বক্তব্য ও দলীয় ন্যারেটিভ উপস্থাপনে তাঁর দক্ষতা রয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের আধিপত্যবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন, জকসুর কার্যক্রম এবং সাংগঠনিক কর্মসূচিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে তাঁর অনুসারীরা জানান।
শামসুল আরেফিনের ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীদের ভাষ্য, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও সংকটকালেও তিনি দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। তাঁদের দাবি, ২৮ অক্টোবর, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৪ সালের ধারাবাহিক আন্দোলন, ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তিনি ভূমিকা রেখেছেন।
কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে শামসুল আরেফিন বলেন, সুযোগ পেলে সংগঠনের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে তিনি ভূমিকা রাখতে চান।
তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নতুন কমিটির শীর্ষ পদে শেষ পর্যন্ত কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে জবি ছাত্রদলের এই তিন নেতার মধ্যে কে বা কারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে জায়গা করে নেন, সেটিই এখন সংগঠনটির নেতাকর্মীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।