
তানিম তানভীর, ইবি প্রতিনিধিঃ অনতিবিলম্বে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার ( ১৬ অক্টোবর) দুপুর দেড়টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ মানববন্ধন করেন তারা। এসময় ছাত্র জনতার উপর আওয়ামী সন্ত্রাসীর আক্রমণ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে সরকারের দীর্ঘসূত্রিতার প্রতিবাদও করেন তারা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের ‘ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করতে হবে, জঙ্গি লীগ নিষিদ্ধ করতে হবে’, ‘বিচারপতিদের প্রহসণ মানি না মানবো না’, ‘দালাল বিচারপতিদের অপসারণ করতে হবে’, ‘মানবতাবিরোধী সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে’ ইত্যাদি প্লা-কার্ড প্রদর্শন করতে দেখা যায়।
এর আগে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
এসময়’ছাত্রলীগের ঠিকানা, বাংলাদেশে হবে না’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’, ‘আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগ, নিষিদ্ধ করো-করতে হবে’, ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনি হাসিনার ফাঁসি চাই, ‘আবু সাইদ-মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’ ইত্যাদি স্লোগান দেন তারা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, হাজার হাজার শহিদের জীবনের বিনিময়ে বিপ্লব করে এদেশকে স্বাধীন করেছি। যাদের হাতে আমাদের ভাই-বোনদের রক্ত লেগে আছে সেই সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগকে অনতিবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে। এ দাবি ৫ আগস্টকে ত্বরান্বিত করা আবু সাইদ, মুগ্ধ ও শহিদদের দাবি। এ দাবি আমাদের সকলের প্রাণের দাবি। গত ১৫বছর ধরে আওয়ামী সরকার সারাদেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে রেখেছিলো। তারা পুনরায় বিভিন্ন ক্যু করে এ অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছে। তারাই দেশে সিন্ডিকেট করে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি করছে। অনতিবিলম্বে তাদের বিরূদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
আরও পড়ুনঃ লক্ষ্মীপুরে স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে অস্ত্রের আঘাতে স্ত্রী নিহত
এছাড়া ১৫ অক্টোবরে হাইকোর্টে জয় বাংলা স্লোগানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, আওয়ামী সরকারের দালাল যেসকল আইনজীবী ও বিচারপতি গণহত্যার সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সাহায্য করছে তাদেরকে অপসারণ করতে হবে। জুলাই বিপ্লবের মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার ও গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি করেন তারা।
ইবি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সহ-সমন্বয়ক নাহিদ হাসান বলেন, গত ১৫ বছরে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার বিভিন্নভাবে ছাত্র জনতাকে হত্যা করেছে, গুম করেছে শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। যেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে এদেশের মানুষের রক্ত জড়িয়ে আছে সেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে এদেশে আমরা কখনোই মেনে নেব না। কিভাবে খুনি হাসিনাকে দেশে এনে বিচার করা যায় তার প্রেক্ষিতে আমরা আবার আন্দোলন করে যাবো।
অন্তর্বর্তী সরকার যদি আমাদের দাবিকে কর্ণপাত না করেন তাহলে আমরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে তাদেরকে পিছপা হতে বাধ্য করবো। ছাত্র জনতার প্রাণের দাবি এ সন্ত্রাসীলীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে ও হাসিনাকে দেশে এনে বিচার করতে হবে। এছাড়া তিনি হাইকোর্টের আওয়ামীলীগের দোসর আইনজীবী ও বিচারপতিদের দ্রুত অপসারণ, পুলিশের মধ্যে লুকিয়ে থাকা দোসরের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি এবং বাজার ব্যবস্থা শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনতে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।



