
রুবেল গাজী রায়পুর(লক্ষীপুর) প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের ভুল সেট বিতরণের ঘটনায় ১১৩ জন শিক্ষার্থীর ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রায়পুর সরকারি মার্চেন্টস একাডেমি কেন্দ্রের দ্বিতীয় ভেন্যুতে।
জানা যায়, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মানবিক বিভাগের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়ের নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ছিল তিন নম্বর সেটের প্রশ্নপত্র। তবে দায়িত্বে অবহেলার কারণে পরীক্ষার্থীদের এক নম্বর সেটের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়। মঙ্গলবার (৫ মে) এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে বুধবার (৬ মে)।
পরীক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষা শেষে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখার পর তারা বুঝতে পারেন যে ভুল সেটে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তা ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষার্থী মিল্লাত হোসেন ও সৌরভ হোসেন বলেন, পরে তারা বুঝতে পারেন যে নির্ধারিত সেটের পরিবর্তে অন্য সেটে পরীক্ষা দিয়েছেন। প্রশ্নের ধরন ও মানেও পার্থক্য ছিল বলে তারা উল্লেখ করেন।
ঘটনার পর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্র সচিব ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা ফারুকীকে শোকজ করেছে। তিনি জবাব দিতে বোর্ডে উপস্থিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এখনো তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি না দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কবীর উদ্দিন আহমেদ ঘটনাটিকে গুরুতর দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। যে সেটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেই অনুযায়ী উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুনঃ ফুটপাতে সফল সালাউদ্দিন বাবু, মাদক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান
এদিকে কেন্দ্র সচিব মোস্তফা ফারুকী ভুলের দায় স্বীকার করে বলেন, পরীক্ষার আগে সিসিটিভি সংক্রান্ত সমস্যায় ব্যস্ত থাকায় অন্য এক শিক্ষক ভুল করে প্রশ্নপত্র খুলে ফেলেন। যদিও নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্র সচিবের উপস্থিতিতে নির্ধারিত সেটের প্রশ্নপত্র খোলার কথা ছিল, সেই নিয়ম মানা হয়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তৌহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র গ্রহণ করা হবে এবং তাদের ফলাফল নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।
ঘটনার পর পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অবহেলা রোধে পরীক্ষাকেন্দ্রে আরও কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।



