spot_img

― Advertisement ―

spot_img

ইবিতে চালু হচ্ছে ফ্রি সাহরি-ইফতার প্রজেক্ট

তানিম তানভীর, ইবি প্রতিনিধিঃ পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে মাসব্যাপী ফ্রি সাহরি ও ইফতার কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'হ্যান্ডস ফর হিউম্যানিটি'।আগামী...
প্রচ্ছদশিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনক্যাম্পাসসাজিদ হত্যার বিচার চেয়ে ইবিতে কফিন মিছিল, শিক্ষার্থীদের সাথে সিআইডির পর্যালোচনা বৈঠক

সাজিদ হত্যার বিচার চেয়ে ইবিতে কফিন মিছিল, শিক্ষার্থীদের সাথে সিআইডির পর্যালোচনা বৈঠক

তানিম তানভীর, ইবি প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার একশো দিন পার হলেও জড়িতদের কেউ এখনো গ্রেফতার হয়নি। দায়িত্ব নেওয়ার এক মাস দশদিন পেরোলেও পুলিশের বিশেষায়িত শাখা অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এখনো হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

রবিবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল পৌনে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও শিক্ষার্থীদের সাথে এক পর্যালোচনা বৈঠক করেন সিআইডির কর্মকর্তারা।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল বারী ও ড. ফকরুল ইসলাম, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তারেক, তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যরা।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক নেতারা, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ও জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়া শাখার নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে জানানো হয়, সাজিদ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এখন পর্যন্ত ৩৫ জনের সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। বিভিন্ন দিক থেকে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ চলছে। তারা বলেন, সকলের সহযোগিতা পেলে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, সাজিদ হত্যার ঘটনায় দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে সিআইডি যাকে প্রয়োজন মনে করবে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার এখতিয়ার রাখে, তবে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা যাবে না—এমন দাবি জানান ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা।

তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “কোনো ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এটি সংবেদনশীল, কারণ কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেলে তাকে অপরাধী ভেবে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। তাই আমরা প্রশাসনের অনুমোদন নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা কর্মকর্তাসহ যেকোনো ব্যক্তিকে প্রয়োজন হলে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবো—এমন প্রজ্ঞাপন জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

আরও পড়ুনঃ জলাভূমি ও দেশীয় মাছ রক্ষায় পাঁচ দফা দাবিরাজশাহীতে জেলেদের মানববন্ধন

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর নির্দেশে বৈঠকে দুটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, ১. প্রতি দুই সপ্তাহে একবার করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সিআইডি তদন্ত অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করবে। ২. তদন্তের প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা বা অন্য যেকোনো ব্যক্তিকে সিআইডি জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল পুকুরপাড় থেকে সাজিদ হত্যার বিচার দাবিতে একটি কফিন মিছিল বের হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রশাসন ভবন চত্বরে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। এতে শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, খেলাফত ছাত্রমজলিস ও জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়া শাখাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তারা আগামী সাতদিনের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দেন।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই বিকেলে শাহ আজিজুর রহমান হল পুকুর থেকে আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদের লাশ উদ্ধার করা হয়। ভিসেরা রিপোর্টে জানা যায়, সাজিদকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। দুই মাস পর তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি, কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।