
মোঃ বিপুল মিয়া, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মধ্যে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (গতকাল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের খলিশাকোটাল সীমান্তে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিজিবির আমন্ত্রণে আয়োজিত প্রায় ৩০ মিনিটব্যাপী এ বৈঠকে সীমান্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে ভারতের বিএসএফের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার কে. কে. রাও এবং বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার গভীর রাতে খলিশাকোটাল সীমান্তের ওপারে ভারতের কোচবিহার জেলার করলা এলাকায় কুর্শাহাট–দিনহাটা সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী জড়ো করে বিএসএফ। বিষয়টি জানতে পেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিজিবি পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়। প্রতিবাদের মুখে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখা হলেও গভীর রাতে পুনরায় কাজ শুরু করে বিএসএফ সদস্যরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, উক্ত সড়কটি সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৩৪ নম্বরের সাব পিলার ১ থেকে ১১ এস পর্যন্ত অংশে কোথাও ২০ থেকে ৬০ গজ, কোথাও ৭০ গজ আবার কোথাও ১০০ গজের মধ্যে বাংলাদেশের ভূখণ্ড রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সীমান্তের এত নিকটে নতুন করে সড়ক নির্মাণের সুযোগ নেই।
আরও পড়ুনঃ যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণ, খুবির শিক্ষককে সাময়িক অব্যাহতি
অভিযোগ রয়েছে, বিএসএফ সদস্যরা সার্চলাইট জ্বালিয়ে রাতের অন্ধকারে গোপনে কাজ চালিয়ে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
এই পরিস্থিতিতে খলিশাকোটাল সীমান্তে একাধিক দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বিএসএফের ৩ ব্যাটালিয়নের অধীন মেঘনা নারায়ণ কুটি কোম্পানি কমান্ডার কাজ বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা মানা হয়নি। ফলে সোমবার উভয় দেশের ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পুনরায় পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এ বিষয়ে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সীমান্ত এলাকায় নতুন রাস্তা নির্মাণের কোনো বিধান নেই। তবে পুরনো রাস্তা সংস্কার করা যেতে পারে। বিএসএফ পক্ষ দাবি করছে তারা পুরনো রাস্তার সংস্কার কাজ করছে এবং সে সংক্রান্ত ছবি দেখিয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিএসএফ একটি লিখিত চিঠি প্রদান করবে এবং এরপর বিজিবি-বিএসএফের যৌথ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সার্ভে পরিচালনা করবে।



