
রুবেল গাজী রায়পুর(লক্ষীপুর) প্রতিনিধিঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বর্ণাঢ্য র্যালি ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
“গণভোট ২০২৬, সংসদ নির্বাচন—দেশের চাবি আপনার হাতে” স্লোগানকে সামনে রেখে র্যালিটি উপজেলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
র্যালি শেষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবারের গণভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্র সংস্কারের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তার চাবি এখন জনগণের হাতে। একটি মহল গণভোট নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেসব অপপ্রচার থেকে দূরে থেকে জনগণকে সঠিক তথ্য জানানোই প্রশাসনের দায়িত্ব।
ইউএনও আরও বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন আসবে এবং গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে। তিনি জনগণকে সচেতন ও নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
সমাবেশে জানানো হয়, ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে সুনির্দিষ্ট ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে। কেউ টানা ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না এবং কোনো দল এককভাবে সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না। পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও পিএসসি গঠনে সরকারি ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করবে, সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন ও নারীদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি পাবে।
আরও পড়ুনঃ ‘গণতন্ত্রের মা’ খালেদা জিয়ার স্মরণে রাজশাহীতে শোকাবহ কর্মসূচি
এ ছাড়া বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন করা, ইন্টারনেট সেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচনের বিধান কার্যকরের কথাও তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়ানো ‘না’ ভোট সংক্রান্ত অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, জনগণের রায়ই নির্ধারণ করবে আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।
র্যালিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক ও কর্মকর্তারা বলেন, এই গণভোট কেবল একটি ভোট নয়, এটি একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।



