
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় একটি আয়রন ব্রিজের ঢালাই কাজে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লার বিরুদ্ধে। সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজের ঢালাইয়ে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরিমাণ সিমেন্টও ব্যবহার করা হয়নি। এ সংক্রান্ত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো এলজিইডির পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী জানান, উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশমী-করিমবাজার খালের ওপর বারপাইকা গ্রামের রুহুল হোসেনের বাড়ির সামনে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। ব্রিজটির দৈর্ঘ্য ৪৫ ফুট এবং প্রস্থ সাড়ে পাঁচ ফুট। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ঢালাইয়ের পুরুত্ব ৫ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে মাত্র সাড়ে ৩ ইঞ্চি ঢালাই দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী ব্রিজের দৈর্ঘ্যে প্রতি ৮ ইঞ্চি এবং প্রস্থে প্রতি ৬ ইঞ্চি পরপর রড ব্যবহারের কথা থাকলেও ঠিকাদার কোনো রড ব্যবহার করেননি বলে দাবি স্থানীয়দের। ঢালাইয়ের সময় এলাকাবাসী বাধা দিলে পরে বাঁশের ফাঁকে ফাঁকে মাত্র ৫টি রড বসানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া সিমেন্টের পরিমাণ কম থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের অর্থে ৫ ব্যাগ সিমেন্ট কিনে এনে কাজে ব্যবহার করেছেন বলে জানিয়েছেন।
এলাকার বাসিন্দা মো. হিমু মোল্লা ও ইদ্রিস মোল্লা সাংবাদিকদের জানান, ব্রিজটির প্রকৃত দৈর্ঘ্য ৫৫ ফুট হলেও ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা মাত্র ৪৫ ফুট ঢালাই দিয়েছেন। তারা আরও দাবি করেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ঢালাইয়ের জন্য সম্প্রতি ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুফলভোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
তবে ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে ৪৫ ফুট ব্রিজের বাইরের অংশে। আমি করিনি, স্থানীয় বাসিন্দারাই বাঁশ ব্যবহার করেছেন।”
আরও পড়ুনঃ এসএসসিতে চালু হলো নতুন শাস্তি নীতি ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’
এ বিষয়ে রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার বলেন, ওই স্থানে ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রথম পর্যায়ে দেড় লাখ টাকা এবং সম্প্রতি ঢালাইয়ের জন্য আরও ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, “ব্রিজের ঢালাইয়ের বিষয়ে আমাদের বিভাগকে কেউ জানায়নি। এলজিইডিকে না জানিয়ে এ ধরনের কাজ করার সুযোগ নেই।”
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন এবং সরেজমিনে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



