― Advertisement ―

spot_img

গ্রাম আদালতে কম খরচে ও স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি সম্ভব: ইউএনও

মো. মুক্তাদির হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম বলেছেন, স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে তৃণমূল প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদ। ইউনিয়ন পরিষদের...
প্রচ্ছদসারা বাংলাগ্রাম আদালতে কম খরচে ও স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি সম্ভব: ইউএনও

গ্রাম আদালতে কম খরচে ও স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি সম্ভব: ইউএনও

মো. মুক্তাদির হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম বলেছেন, স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে তৃণমূল প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদ। ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের মাধ্যমে কম খরচে ও স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব। ছোটখাটো বিরোধ মীমাংসায় গ্রাম আদালত কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার বেরুয়া ঈদগাহ মাঠে উপজেলা প্রশাসন ও বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে পরিবার পরিকল্পনা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী সচেতনতা ও গ্রাম আদালত বিষয়ক সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান আকন্দ ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক আবু তাহের মো. সানাউল্লাহ নূরী, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আবুল হোসেন (আকাশ), উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা সোহা তামান্না এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাহিদা খাতুন।

উপজেলা মহিলা সংস্থার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেসমিন বেগম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, গ্রাম আদালতের প্যানেলে আবেদনকারী ও প্রতিপক্ষের মনোনীত দুজন করে চারজন সদস্য এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ মোট পাঁচজন সদস্য থাকেন। নারীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গ্রাম আদালত গঠনের ক্ষেত্রে একজন নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক।

তিনি বলেন, “মাদক কোনো সমাধান নয়; বরং এটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ ধ্বংসের অন্যতম কারণ। মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে পরিবার থেকেই সচেতনতা তৈরি করতে হবে এবং সামাজিকভাবে সবাইকে একযোগে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”

বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে কোনো মেয়ের বিয়ে দেওয়া যাবে না। আগামীতে যাতে বাল্যবিবাহ না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”

আরও পড়ুনঃ ইবির হলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিতে হিট প্রকল্পের উদ্বোধন

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন বলেন, “মাদকমুক্ত কালীগঞ্জ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকেই নয়, একটি পরিবার ও সমাজকেও ধ্বংস করে দেয়। তাই মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই মানে নিজের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা।”

সভাপতির বক্তব্যে বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান আকন্দ ফারুক বলেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে দেওয়ানি ও ফৌজদারি—উভয় ধরনের ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তি করা যায়। এখানে আইনজীবীর প্রয়োজন হয় না এবং পক্ষগুলো নিজেরাই নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন। তিনি জানান, গ্রাম আদালতে দেওয়ানি মামলার আবেদন ফি ২০ টাকা এবং ফৌজদারি মামলার আবেদন ফি ১০ টাকা।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন শিকদার, জেলা বিএনপির সাবেক প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক মো. গোলজার হোসেন মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সদস্য কাজী মাহাবুর রহমান সবুজ, বক্তারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহমদুল কবির খান নাঈম, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাঈম শাহরিয়ার মাসুম, জেলা ছাত্রদলের সদস্য নাদিম হাসান, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।