― Advertisement ―

spot_img

টেক্সটাইল ক্যাডার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সুবিবেচনা করবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী মিলন

বুটেক্স প্রতিনিধি: বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) নবীন শিক্ষার্থীদের বরণের অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন "বর্তমানে বিসিএসে টেক্সটাইলের জন্য আলাদা...
প্রচ্ছদশিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনক্যাম্পাসটেক্সটাইল ক্যাডার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সুবিবেচনা করবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী মিলন

টেক্সটাইল ক্যাডার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সুবিবেচনা করবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী মিলন

বুটেক্স প্রতিনিধি: বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) নবীন শিক্ষার্থীদের বরণের অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন “বর্তমানে বিসিএসে টেক্সটাইলের জন্য আলাদা কোনো ক্যাডার নেই। টেক্সটাইল ক্যাডারের ন্যায্য দাবিটি সামনে সুবিবেচনার সুযোগ রয়েছে। আমি বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করব।”

বুধবার (১ জুলাই) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের লেভেল-১, টার্ম-১ এ ভর্তি হওয়া ৫২তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ উপলক্ষে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। এ অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে ভবিষ্যৎ বস্ত্র প্রকৌশলীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব)-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন এবং এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব)-এর সদস্য সচিব শাহাদত হোসেন বিপ্লব।

এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইবির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ (সেলিম) এবং দি ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি)-এর নবনির্বাচিত সভাপতি প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৫২তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “নবীন শিক্ষার্থীদের টেক্সটাইল শিল্পের ভবিষ্যৎ, উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। নেতৃত্বদানের ক্ষমতা অর্জনও একজন শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

শিক্ষামন্ত্রী বুটেক্সের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গবেষণাকেন্দ্র নির্মাণ এবং ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের বিষয়েও সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু হবে এবং সরকারের সহযোগিতায় দ্বিতীয় ক্যাম্পাস স্থাপনের উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, “দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাত থেকে। বুটেক্সের দক্ষ প্রকৌশলীরা এই খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। বুটেক্স থেকে পাস করা একজন টেক্সটাইল প্রকৌশলীও বেকার নেই, যা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্যের অন্যতম প্রমাণ।”

তিনি আরও বলেন, “টেক্সটাইল খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাই বুটেক্সে একটি আধুনিক গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের জন্য ক্যাডারভিত্তিক নিয়োগের বিষয়টি সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে।”

আরও পড়ুনঃ ইবি শিক্ষিকা হত্যা: অধিকতর তদন্তে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন নবীন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়াশোনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা ও ভালো ফলাফলের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নেতৃত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা এবং মানবিক গুণাবলি অর্জন করতে হবে। বুটেক্সের লক্ষ্য শুধু দেশীয় শিল্পের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রতিযোগিতায় সক্ষম ‘গ্লোবাল গ্র্যাজুয়েট’ তৈরি করা।”

তিনি আরও বলেন, “গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। নবীন শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ে স্নাতক সম্পন্ন করে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করি।”

অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম, পরীক্ষা পদ্ধতি, গবেষণা, উদ্ভাবন, সহশিক্ষা কার্যক্রম, ক্যাম্পাস জীবন ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও প্রদান করা হয়।