
তাওহিদ ইসলাম, ইবি প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরে দৈনিক মজুরিভিত্তিক (ডে লেবার) কর্মচারীদের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটি চুক্তিভিত্তিক (থোক) কর্মচারীদেরও সাক্ষাৎকার নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চাকরি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীরা। তবে কমিটি গঠনের অফিস আদেশে থোক কর্মচারীদের বিষয়ে কোনো নির্দেশনার উল্লেখ নেই বলে জানা গেছে। ফলে কমিটির কার্যপরিধি এবং এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার আইনগত এখতিয়ার নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, গত ২০ জুন প্রকাশিত এক অফিস আদেশে (স্মারক নং: প্রশা/ইবি/২০২৬/১৪০৮) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরে দৈনিক মজুরিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের যাচাই-বাছাই করে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। আদেশে বলা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও অফিসে দৈনিক মজুরিভিত্তিতে যেসব লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা যাচাই-বাছাই করে রিপোর্ট পেশ করার জন্য ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয় একটি কমিটি গঠন করেছেন।’ তবে ওই আদেশে চুক্তিভিত্তিক (থোক) কর্মচারীদের বিষয়ে কোনো নির্দেশনার উল্লেখ করা হয়নি।
অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক থোক কর্মচারী জানান, কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে তাদের সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে ‘কোন দপ্তরে, কার সুপারিশে এবং কী প্রয়োজনের ভিত্তিতে’ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, এমন প্রশ্নও করা হচ্ছে। এতে নিয়োগ বাতিলের আশঙ্কায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জনবল নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় বিশেষ বিবেচনায় বিভিন্ন দপ্তরে চুক্তিভিত্তিক (থোক) কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব কর্মচারীর একাংশ পোষ্য কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ১০ থেকে ২০ বছর ধরে স্থায়ী নিয়োগের প্রত্যাশায় দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এদিকে চুক্তিভিত্তিক (থোক) কর্মচারীদের লিখিত নোটিশ ছাড়াই সাক্ষাৎকারের জন্য তলবের ঘটনায় এ ধরনের প্রক্রিয়ার আইনগত দিক জানতে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের একাধিক অধ্যাপকের সঙ্গে। তাঁরা বলেন, কোনো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কাউকে ডাকা হলে নির্দিষ্ট কিছু প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করতে হয়। যাকে তলব করা হবে, তাকে কী কারণে ডাকা হচ্ছে, তা উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিক নোটিশ বা চিঠি দেওয়া উচিত। ফোনে ডাকা হলেও সাক্ষাতের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে জানাতে হয়। একইভাবে, তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকার গ্রহণের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় পুরো প্রক্রিয়ার আইনগত এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
আরও পড়ুনঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ যানবাহনে বসছে জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব এ. জেড. এম. আছাফদ্দৌলা বিষয়টি তদন্তাধীন উল্লেখ করে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
এদিকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, “এ ধরনের কোনো প্রকাশ্য নোটিশ দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট অফিস বা দপ্তরপ্রধানের মাধ্যমে থোক ও ডে লেবার কর্মচারীদের ডাকা হয়েছে। যাদের প্রয়োজন হয়েছে, সবাইকে ডাকা হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, গত ২০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরে দৈনিক মজুরিভিত্তিক (ডে লেবার) নিয়োগপ্রাপ্তদের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশের পূর্ণাঙ্গ কপি সাংবাদিকদের দেখাতে আপত্তি জানায় প্রশাসন। শুধু কমিটির সদস্যদের নাম-সংবলিত অংশ দেখানো হলেও নির্দেশনা, কার্যপরিধি ও অন্যান্য অংশ গোপন রাখা হয়। এদিকে কমিটিকে ডে লেবার কর্মচারীদের যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলেও চুক্তিভিত্তিক (থোক) কর্মচারীদেরও সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হচ্ছে বলে বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।



