
আলি উল আজিম নিলয়, জবি প্রতিনিধিঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ এবং পুলিশের লাঠিচার্জে একাধিক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হয়েছেন। আহতদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) মধ্যরাতে পুরান ঢাকার মুরগিটোলা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার প্রতিবাদে রাত আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা মুরগিটোলা মোড় অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ সময় উত্তেজনা বিরাজ করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, আইন বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলাম রাহাত বাসার পানির লাইন মেরামতের জন্য বাড়িওয়ালাকে ৫০০ টাকা দেন। কাজ শেষে প্লাম্বার মাইকেল অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে রাহাত তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে মাইকেল তার জুতা নিয়ে চলে যান। জুতা ফেরত চাইতে গেলে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ সময় বাড়িওয়ালার ছেলে আশিক ঘটনাস্থলে এসে রাহাতকে মারধর করেন। এতে তার মাথা ফেটে যায়। খবর পেয়ে রাহাতের সহপাঠী ও বন্ধুরা ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেন্ডারিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশের উপস্থিতিতেই আশিককে মারধরের চেষ্টা করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করে।
লাঠিচার্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও আমার দেশ পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি লিমন ইসলাম এবং দৈনিক সময়–এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি অপূর্ব রায় আহত হন। এছাড়া আহত হন শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলাম রাহাত।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
আরও পড়ুনঃ গ্রাম আদালতে কম খরচে ও স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি সম্ভব: ইউএনও
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. নাসির উদ্দীন বলেন, “আমি খোঁজ নিয়েছি। শিক্ষার্থীরা পুলিশের কাছ থেকে অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিয়ে মারধরের চেষ্টা করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করে এবং অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনে। দুজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আমরা তাদের খোঁজখবর রাখছি।”
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না। ডেমরা জোনের এডিসি মীর মুহাসীন ঘটনাস্থলে ছিলেন। বিস্তারিত তিনিই ভালো বলতে পারবেন।”
ডেমরা জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মীর মুহাসীন বলেন, “ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু শিক্ষার্থী পাশে থাকা বাঁশ নিয়ে পুলিশের দিকে ধেয়ে এলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। বিষয়টি আরও পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”



