― Advertisement ―

spot_img

ইবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা, আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন

তাওহিদ ইসলাম, ইবি প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের ৩৯ সদস্যবিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এতে আহ্বায়ক হিসেবে মাসুদ রুমি মিথুন,...
প্রচ্ছদশিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনক্যাম্পাসইবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক

ইবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক

তাওহিদ ইসলাম, ইবি প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন একাডেমিক অনিয়মের অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব শেখ। তবে অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের অনেকেই দাবি করেছেন, এ অভিযোগ সম্পর্কে তারা অবগত নন। পাশাপাশি অনুমতি ছাড়া তাদের নম্বরপত্র সংগ্রহ করে অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করার অভিযোগও তুলেছেন তারা।

গত ৩০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের কাছে দেওয়া অভিযোগপত্রে পরীক্ষার মূল্যায়নে অনিয়ম, ব্যক্তিগত আক্রোশ, শিক্ষার্থীদের হয়রানি, ফলাফলে বৈষম্য, হুমকি এবং একাডেমিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়। একই সঙ্গে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজিমউদ্দিনকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স পরীক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব থেকে অপসারণ এবং সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার দাবি জানানো হয়।

অভিযোগকারী রাকিব শেখ দাবি করেন, বিভাগের বিভিন্ন আন্দোলন, প্রতিবাদ এবং একাডেমিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক তার প্রতি ব্যক্তিগত আক্রোশ পোষণ করেন। এর জেরে Islamic Law of Inheritance (কোর্স নং-৪১০৫) কোর্সে প্রথম পরীক্ষক হিসেবে তাকে ৭০ নম্বরের মধ্যে ৩২ নম্বর দেওয়া হয়। দ্বিতীয় পরীক্ষক ৫৫ নম্বর দিলেও তৃতীয় পরীক্ষকের মূল্যায়নে তা ৩৭ নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি-সংক্রান্ত কোটার বিষয়ে কথা বলায় অন্য এক শিক্ষকের মাধ্যমে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ১৫ মিনিট ক্লাস নিয়ে কোর্স শেষ করে মিডটার্ম পরীক্ষা না নিয়েই ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খন্দকার ইউসুফ আলীকে একটি কোর্সের ইন্টারনাল পরীক্ষায় শূন্য নম্বর দেন, ফলে তাকে রিটেক দিতে হয়। একইভাবে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারিয়া জান্নাত প্রমিকে ক্লাস ও মিডটার্মে অংশ নেওয়ার পরও ইন্টারনালে শূন্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

এছাড়া অধ্যাপক নাজিমউদ্দিন নিয়মিত কোর্সের নির্ধারিত ক্রেডিট আওয়ার সম্পন্ন করেননি এবং একাডেমিক কার্যক্রমে বিভিন্ন অনিয়ম করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি থাকাকালে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশে বিলম্বের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছিল, যার পর এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।

তবে অভিযোগপত্রে যাদের ভুক্তভোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের কয়েকজন অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারিয়া জান্নাত প্রমি বলেন, “আমার নাম ব্যবহার করে অভিযোগ করা হয়েছে, কিন্তু আমি এ ধরনের কোনো অভিযোগ করিনি। যে সমস্যার কথা বলা হয়েছে, পরে স্যার সেটি সমাধান করে দিয়েছিলেন। এরপর এ বিষয়ে আমার আর কোনো অভিযোগ ছিল না। আমার অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য ও নম্বরপত্র সংগ্রহ করে অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও আইনবহির্ভূত। আমি এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে চাই।”

শিক্ষার্থী আল মামুন হাসান রাজু বলেন, “অভিযোগপত্রে আমার নাম রয়েছে, কিন্তু বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। আমাকে না জানিয়েই সেখানে আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। আমার মার্কশিটে একটি ভুল হয়েছিল ঠিকই, তবে অভিযোগ করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।”

আরেক শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, “আমার নামে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, কিন্তু আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। মিডটার্মে শূন্য নম্বর পেয়েছিলাম, কারণ প্রথম বর্ষে আমি নিয়মিত ক্লাস করিনি।”

আরও পড়ুনঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের চূড়ান্ত পরিণতি: জাহেদ উর রহমান

খন্দকার ইউসুফ আলীও জানান, অভিযোগপত্রে তার নাম ব্যবহারের বিষয়ে তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী রাকিব শেখ বলেন, “যাদের নাম দেওয়া হয়েছে, তাদের আলাদা করে অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমার ঘটনার সঙ্গে তাদের ঘটনাও প্রাসঙ্গিক হওয়ায় তাদের নাম উল্লেখ করেছি। এতে বোঝানো হয়েছে যে শুধু আমার সঙ্গেই নয়, আরও অনেকের সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটেছে।”

অন্য শিক্ষার্থীদের নম্বরপত্র অনুমতি ছাড়া সংযুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা তো পাবলিক বিষয়। যে কেউ এগুলো সংগ্রহ করতে পারে।”

অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজিমউদ্দিন বলেন, “অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যাদের নাম অভিযোগপত্রে ব্যবহার করা হয়েছে, তারা নিজেরাই বিভাগে লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। বিষয়টি বিভাগীয় একাডেমিক কমিটিতে আলোচনা হয়েছে এবং সেখানে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি।”

তিনি আরও বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা নম্বর প্রদান, ১৫ মিনিট ক্লাস নেওয়া কিংবা ক্রেডিট আওয়ার পূরণ না করার মতো অভিযোগগুলোরও কোনো ভিত্তি নেই। বিশ্ববিদ্যালয় তদন্ত করলে প্রকৃত বিষয় সামনে আসবে।”

অভিযোগের পেছনে কারও প্ররোচনা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কেন অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি অভিযোগকারীই ভালো বলতে পারবেন। একজন শিক্ষার্থী একা নাকি কারও প্ররোচনায় এমনটি করেছেন, সেটি তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।”