― Advertisement ―

spot_img

হেরে গিয়েও মানুষের হৃদয় জয় করে নিল মিশর!

আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছিলেন, মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি তার চিন্তা করার ক্ষমতা। আমার কাছে সেই কথাটিরই আরেকটি বাস্তব রূপ ফুটে ওঠে ফুটবল কিংবা রাজনীতির মতো...
প্রচ্ছদকলাম"উচ্চশিক্ষায় ওবিই (আউটকাম বেজড এডুকেশন) সময়ের দাবি"

“উচ্চশিক্ষায় ওবিই (আউটকাম বেজড এডুকেশন) সময়ের দাবি”

আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছিলেন, “শিক্ষা শুধু তথ্য মুখস্থ করার নাম নয়; বরং শিক্ষা হলো চিন্তা করার ক্ষমতা অর্জনের প্রক্রিয়া।” কিন্তু আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আমাদের সামনে ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে—আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি সত্যিই চিন্তাশীল মানুষ তৈরি করছে, নাকি শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়া গ্র্যাজুয়েট তৈরি করছে?

বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করছে। অথচ তাদের অনেকেরই অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যা শিখেছে, কর্মক্ষেত্রে তার বড় একটি অংশের বাস্তব প্রয়োগ নেই। এটি শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; বরং আমাদের পুরো উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার একটি কাঠামোগত সংকট।

এখন প্রশ্ন হলো—আমরা কী শেখাচ্ছি, নাকি শিক্ষার্থী কী শিখছে—কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

দীর্ঘদিন ধরে আমাদের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা মূলত শিক্ষককেন্দ্রিক। শিক্ষক ক্লাস নেন, শিক্ষার্থীরা নোট করে, পরীক্ষায় লিখে এবং ভালো নম্বর পেলেই তাকে ‘ভালো ছাত্র’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু বাস্তব জীবন কি এভাবেই পরিচালিত হয়?

একজন চিকিৎসকের দক্ষতা কেবল লিখিত পরীক্ষার নম্বর দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না। একজন প্রকৌশলীর সক্ষমতা শুধু সূত্র মুখস্থ জানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একইভাবে একজন ব্যবস্থাপকের যোগ্যতা বইয়ের সংজ্ঞা মুখস্থ করার ওপর নির্ভর করে না; বরং বাস্তব পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতার ওপর নির্ভর করে। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেন এখনো মুখস্থবিদ্যাভিত্তিক মূল্যায়নের ওপর এত বেশি নির্ভরশীল থাকবে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই এসেছে আউটকাম বেজড এডুকেশন (Outcome-Based Education—OBE)।
ওবিই-এর মূল দর্শন হলো, “শিক্ষক কী পড়ালেন”—এটি নয়; বরং “শিক্ষার্থী কী শিখল এবং সেই জ্ঞান ও দক্ষতা বাস্তবে কতটা প্রয়োগ করতে পারছে”—সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুনঃ  উচ্চশিক্ষার সংকট: দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শিক্ষক প্রশিক্ষণ

অনেকেই মনে করেন, ওবিই মানেই পিএলও (Program Learning Outcome), সিএলও (Course Learning Outcome), ম্যাপিং, রুব্রিকস কিংবা অ্যাক্রিডিটেশনের জন্য কিছু কাগজপত্র তৈরি করা। বাস্তবে এটি একটি ভুল ধারণা।

আউটকাম বেজড এডুকেশন মূলত একটি শিক্ষাদর্শন। এখানে প্রথমেই নির্ধারণ করা হয়, একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেমন ধরনের গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে চায়। এরপর সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে পাঠ্যক্রম (Curriculum), পাঠদান পদ্ধতি (Teaching Method), শিক্ষণ কার্যক্রম (Learning Activities) এবং মূল্যায়ন ব্যবস্থা (Assessment System) পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়।

ওবিই-এর মূল লক্ষ্য শুধু ডিগ্রি প্রদান নয়; বরং এমন একজন দক্ষ, সৃজনশীল, সমস্যা সমাধানে সক্ষম এবং কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত গ্র্যাজুয়েট তৈরি করা, যিনি বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবেন।

লেখকঃ সহযোগী অধ্যাপক ড. ফুয়াদ হোসেন
ডীন, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদ, গণ বিশ্ববিদ্যালয়।