
তাওহিদ ইসলাম, ইবি প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ডিবেটিং সোসাইটির (আইইউডিএস) সভাপতি ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রোশে পদবঞ্চিত করা, রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং মানসিক হয়রানির অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মডারেটরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সংগঠনটির এক সদস্য।
রোববার (১২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে আইইউডিএসের মডারেটর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামানের কাছে অভিযোগপত্র জমা দেন সংগঠনটির সদস্য ও লালন শাহ হল ডিবেটিং সোসাইটির কার্যনির্বাহী সদস্য মিশুক শাহরিয়ার।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, সম্প্রতি ইবি ডিবেটিং সোসাইটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হলেও তাকে কমিটিতে রাখা হয়নি। মিশুক শাহরিয়ারের দাবি, নির্বাচনকালীন উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের পরবর্তী কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হল কমিটির আনুষ্ঠানিক সদস্য নন—এমন একজনকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও সভাপতি ইয়াছিন আলী তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘শিবির’ ট্যাগ দিয়ে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন। এছাড়া শিবির আয়োজিত একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দল নিবন্ধন করায় তার দলকে হুমকি দেওয়া এবং অযৌক্তিকভাবে শোকজ নোটিশ দিয়ে মানহানির চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মিশুক শাহরিয়ার আরও অভিযোগ করেন, সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি কোনো হল ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি হতে পারবেন না। কিন্তু ইয়াছিন আলী নিজে লালন শাহ হল ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি হওয়ার উদ্দেশ্যে হল প্রভোস্টের কাছে তার সম্পর্কে মিথ্যা ও আপত্তিকর তথ্য দিয়েছেন। পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, বিভিন্ন সময় জেরা করে মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং হলের বিতর্ক কক্ষের তালা পরিবর্তন করে কার্যক্রম স্থগিত রাখার অভিযোগও তোলা হয়।
অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আনা বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে— রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হেয় প্রতিপন্ন করা, হল কমিটির দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা, শিবির আয়োজিত বিতর্কে অংশ নেওয়ায় হুমকি ও শোকজ, ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, জুনিয়রদের কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে মানহানি, প্রভোস্টের কাছে মিথ্যা তথ্য প্রদান, সংগঠনের বাইরে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা, মানসিক হয়রানি এবং ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারণে কেন্দ্রীয় কমিটিতে দায়িত্ব না দেওয়া।
আরও পড়ুনঃ ভারী বর্ষণে জবির বাসের ওপর ভেঙে পড়ল গাছ, অল্পের জন্য বাঁচল শিক্ষার্থীরা
এ বিষয়ে মিশুক শাহরিয়ার বলেন, “ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে যোগ্য বিতার্কিকদের সংগঠন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমার ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও মানহানির সুষ্ঠু বিচার চাই। পাশাপাশি নির্বাচনকালীন উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানাচ্ছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আইইউডিএস সভাপতি ইয়াছিন আলী বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তাকে কোনো রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়া হয়নি। শিবিরের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কারণে কাউকে হুমকি দেওয়া হয়নি। সংগঠনের সভাপতিকে না জানিয়ে এমন একটি কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলার অংশ হিসেবে শোকজ করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রভোস্টের কাছে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করিনি। কারও ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করারও আমার কোনো এখতিয়ার নেই।”
এ বিষয়ে সংগঠনটির মডারেটর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান বলেন, “আমি অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছি। অভিযোগকারীর সঙ্গে কথা বলব। এছাড়া আরেকজন শিক্ষার্থীও একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”



