― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদশিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনক্যাম্পাসছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে জবি ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ, জানালো পাঁচ দফা দাবি

ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে জবি ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ, জানালো পাঁচ দফা দাবি

আলি উল আজিম নিলয়, জবি প্রতিনিধিঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তারা “শিক্ষা, সন্ত্রাস—একসঙ্গে চলে না”, “ছাত্রদলের চেহারায় ছাত্রলীগকে দেখা যায়”, “সালাউদ্দিন করে কী, খায়-দায়, ঘুমায় নাকি?” এবং “আমার ভাই আহত কেন? প্রশাসন জবাব চাই”—এমন স্লোগান দেন।

কর্মসূচি থেকে পাঁচ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়। দাবিগুলো হলো— হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ৭ একর এলাকায় ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে, ক্যাম্পাসে অছাত্রদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পরদিন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে হবে।

জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া অভিযোগ করেন, আগের দিন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং এতে অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, পরে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদল ও সদরঘাট এলাকার যুবদলের কিছু কর্মী হাসপাতালে ঢুকে জরুরি বিভাগে হামলা চালায়।

তিনি বলেন, “হাসপাতালে ঢুকে হামলার এমন ঘটনা আমরা আগে ইসরায়েলি বাহিনীর ক্ষেত্রে দেখেছি, এরপর ছাত্রলীগ এবং এখন ছাত্রদলের ক্ষেত্রে দেখলাম। ছাত্রদল যদি এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে চায়, তাহলে ছাত্রলীগের পরিণতির কথা তাদের মনে রাখা উচিত।”

শাহিন মিয়া আরও বলেন, হামলার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘এই ক্যাম্পাস ছাত্রদলের’ বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন। তিনি দাবি করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি সবার।

আরও পড়ুনঃ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ বলেন, হামলার পর প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্যাম্পাস বন্ধ রাখার পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। তিনি দ্রুত পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য ইসমাইল হোসেন তাসিন অভিযোগ করেন, ছয়জন প্রতিনিধি দাবি জানাতে অডিটোরিয়ামে যেতে চাইলে প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাধা দেন। তিনি আরও দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে ছাত্রশিবিরের সভাপতি, জকসুর ভিপি, ছাত্রফ্রন্টের নেতা ইভানসহ কয়েকজনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বুধবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।