
তাওহিদ ইসলাম, ইবি প্রতিনিধিঃ দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কথিত ফ্যাসিবাদী ও রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) জিয়া পরিষদ। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (৫ আগস্ট) ইবি জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ও নিষিদ্ধ সংগঠনের আদর্শিক তৎপরতায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠে এসেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী জাতীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জিয়া পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে একটি শিক্ষক সংগঠন অনলাইনে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে, যা দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। তারা ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
আরও পড়ুনঃ কড়া নিরাপত্তায় জবি ক্যাম্পাস, আইডি কার্ড ছাড়া প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি দেশজুড়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী মহলকে ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত “শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা” শীর্ষক প্রতিবেদনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ জন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী ১২ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



