
মেহেদী হাসান মিরাজের ক্যাচটি জাস্টিন গ্রিভসের হাতে জমা পড়তেই তাওহিদ হৃদয়ের চোখেমুখে ফুটে ওঠে হতাশা। কারণ মিরাজ ছিলেন বাংলাদেশের শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান। তাঁর বিদায়ের পর দলের ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব অনেকটাই এসে পড়ে হৃদয়ের কাঁধে। মিরাজের আউটের পর মাথা ঝাঁকিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত সেই চাপ সামলে ব্যাট হাতেই জবাব দিয়েছেন তিনি।
মিরাজ আউট হওয়ার সময় ৮১ রানে অপরাজিত ছিলেন হৃদয়। সেখান থেকে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে বাকি ১৯ রান করতে তিনি হাঁকিয়েছেন চারটি বাউন্ডারি। ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্টেই চাপের মুখে এমন দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এই ব্যাটসম্যান।
মিরপুরে আগের টেস্টের দুই ইনিংসেই আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে আউট হয়েছিলেন হৃদয়। এরপর টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর ধৈর্য ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সিলেটে গতকাল ব্যাটিংয়ে নামার সময়ও ধারাভাষ্যকক্ষে এ নিয়ে আলোচনা করছিলেন ইয়ান বিশপ। তাঁর বক্তব্যের সারকথা ছিল, টেস্ট ক্রিকেটের উপযোগী মানসিকতা ও ধৈর্য হৃদয়ের আরও বাড়াতে হবে। তবে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির মাধ্যমে সেই প্রশ্নের জবাব দিতে খুব বেশি সময় নেননি হৃদয়।
হৃদয়ের ইনিংসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল তাঁর সংযম ও নিয়ন্ত্রণ। প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথার লড়াইয়ে জড়ালেও নিজের মনোযোগ হারাননি তিনি। দ্বিতীয় দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার জেডেন সিলসের সঙ্গে তাঁর দ্বৈরথ জমে ওঠে। প্রায় প্রতিটি বলেই হৃদয়কে উত্তেজিত করার চেষ্টা করেন এই ক্যারিবীয় পেসার। তবে পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে বেপরোয়া কোনো শট খেলেননি বাংলাদেশের এই ব্যাটসম্যান।
আজ তৃতীয় দিনের সকালে ২৯ রানে অপরাজিত থেকে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ব্যাটিংয়ে নামেন হৃদয়। এক প্রান্ত থেকে দেখেছেন মুশফিক ও লিটন দাসের বিদায়। এরপর ৪১ রানের জুটি গড়েও প্যাডেল সুইপ করতে গিয়ে আউট হন মেহেদী হাসান মিরাজ।
আরও পড়ুনঃ শুধু জিপিএ-৫ পেলেই উন্নত হয় না একটি জাতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
তবে সতীর্থদের একের পর এক বিদায়েও নিজের মনোযোগ ধরে রাখেন হৃদয়। কাট, ড্রাইভ, সুইপ কিংবা পুল—বিভিন্ন ধরনের শটে রান তুলেছেন তিনি। প্রয়োজন অনুযায়ী খেলেছেন আঁটসাঁট ডিফেন্সও। বেশির ভাগ সময় বল মাটিতে রেখে ঝুঁকি কমিয়ে ইনিংস এগিয়ে নিয়েছেন।
তাইজুল ইসলাম উইকেটে আসার পর তাঁকেও আগলে রাখার চেষ্টা করেন হৃদয়। শেষ পর্যন্ত তাইজুলকে সঙ্গে নিয়েই মধ্যাহ্নভোজের বিরতির ঠিক আগে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছে যান তিনি। সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ব্যাটের আগায় হেলমেট রেখে মুচকি হেসে উদযাপন করেন হৃদয়। গ্যালারি ও ড্রেসিংরুম থেকে করতালিতে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়।
তবে ব্যক্তিগত সেঞ্চুরির আনন্দের মধ্যেও ম্যাচের কঠিন বাস্তবতা ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই হৃদয়ের। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে তখনো ১৫১ রানের ঘাটতি। হাতে বাকি মাত্র দুই উইকেট; সাদমান ব্যাট করতে পারবেন না। ১ ছক্কা ও ১১ চারে ১৭১ বলে ১০০ রানে অপরাজিত থাকা হৃদয়ের সামনে তাই মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পরও অপেক্ষা করছে বড় চ্যালেঞ্জ।



