spot_img

― Advertisement ―

spot_img

পদ্মানদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ জেলের মরদেহ উদ্ধার

মোঃ আব্দুল আলিম, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় পদ্মানদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া জেলে আমিনুল ইসলাম (৫০)-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও...
প্রচ্ছদসারা বাংলারাজশাহীতে ৫৭ শতাংশ বাড়িতে এডিস মশার উপস্থিতি, ডেঙ্গুতে উচ্চ ঝুঁকিতে নগরবাসী

রাজশাহীতে ৫৭ শতাংশ বাড়িতে এডিস মশার উপস্থিতি, ডেঙ্গুতে উচ্চ ঝুঁকিতে নগরবাসী

মোঃ আব্দুল আলিম, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীতে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে এডিস মশার লার্ভা। স্বাস্থ্য বিভাগের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, নগরীর ৫৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ বাড়িতে এডিস মশার উপস্থিতি রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী ২০ শতাংশের বেশি ডেঙ্গুর লার্ভা থাকলেই সেটি ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়, যা রাজশাহীতে কয়েকগুণ বেশি।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের তথ্য মতে, চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসে ১০-১৫ শতাংশ বাড়িতে লার্ভা পাওয়া গেলেও জুলাই মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ দশমিক ৩৩ শতাংশে। গত বছরের ভরা মৌসুমে এই হার ছিল ৪৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের কীটতত্ত্ব টেকনিশিয়ান আব্দুল বারী জানান, পাঁচটি ওয়ার্ডের ৭৫টি বাড়ি পরীক্ষা করে ৩২টি বাড়িতে ৪৩টি পজিটিভ কন্টেইনার পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, “২০ শতাংশের বেশি লার্ভা থাকলে এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়। সে অনুযায়ী রাজশাহী এখন ভয়াবহ অবস্থায়।” তিনি লার্ভা নিয়ন্ত্রণে কন্টেইনার ম্যানেজমেন্ট, পানি জমে থাকা বন্ধ করা, ট্যাংকিতে মাছ ছাড়া এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন অফিসের কীটতত্ত্ববিদ উম্মে হাবিবা বলেন, “বাড়ির আশপাশে ফুলের টব, ডাবের খোলা, ছাদবাগান, খেলনা, দইয়ের পাত্রসহ নানা কন্টেইনারে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। পরীক্ষার ফলাফল সিটি করপোরেশনকে পাঠানো হয়েছে এবং ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।”

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, সাওরাইদ বাজার শাখার উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান

বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকে গত দুই মাসে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন, মারা গেছেন ৪ জন, যার মধ্যে একজন শিশু। বর্তমানে হাসপাতালে ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, রোগীদের অধিকাংশই স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন, বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বেশি রোগী আসছে। হাসপাতালটি আগে থেকেই ডেঙ্গু ওয়ার্ড ও ওষুধ-স্যালাইনের মজুদ প্রস্তুত রেখেছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন বলেন, “শুধু ৫৭ শতাংশ নয়, আমরা মনে করি গোটা নগরীতেই মশার বিস্তার আছে। সে অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছি।”

তিনি জানান, বর্ষাকালে পানির প্রবাহ সচল রাখা, জঙ্গল পরিষ্কার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি তাদের প্রধান কাজ। বর্ষা শেষে শুরু হবে লার্ভা নিধন কার্যক্রম।