spot_img

― Advertisement ―

spot_img

ফ্যাসিবাদী কায়দায় জুলাই যোদ্ধাদের ফাঁসানোর অভিযোগ, পুলিশের ভাষ্য ‘ডাকাতির প্রস্তুতি’

মোঃ সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীতে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের তিন কর্মীকে ফ্যাসিবাদী কায়দায় গ্রেপ্তার করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে ঘটনার...
প্রচ্ছদসারা বাংলাজলাভূমি ও দেশীয় মাছ রক্ষায় পাঁচ দফা দাবিরাজশাহীতে জেলেদের মানববন্ধন

জলাভূমি ও দেশীয় মাছ রক্ষায় পাঁচ দফা দাবিরাজশাহীতে জেলেদের মানববন্ধন

মোঃ সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ দেশীয় মাছ, জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় চায়না দুয়ারি জালসহ বিদেশি ক্ষতিকর মাছ ধরার সরঞ্জাম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন রাজশাহীর স্থানীয় জেলে সম্প্রদায়। একইসঙ্গে এসব জালের আমদানি, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার বরাবর স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়েছে।

রবিবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রাজশাহীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে গ্রীন কোয়ালিশন (সবুজ সংহতি) ও উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক-এর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার সরঞ্জাম—খোঁরা জাল, পলো, বৃত্তি, চাঁই, বিনকি, খলই ও কাঁটা ফাঁদ হাতে নিয়ে অংশ নেন জেলেরা। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চায়না দুয়ারি জালের কারণে জলাশয়গুলো মৃতপ্রায় হয়ে পড়ছে, দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে।”

মানববন্ধনে মাঠপর্যায়ের গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রায় সব নদ-নদী ও খাল-বিলে এখন চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করা হচ্ছে। অতিক্ষুদ্র ফাঁসের এই জালে মাছের ডিম, পোনা, ব্যাঙ, কচ্ছপসহ সব জলজ প্রাণী ধ্বংস হচ্ছে। ফলে জলজ বাস্তুসংস্থান ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে।”

তিনি আরও জানান, মৎস্য সংরক্ষণ আইনে ৪.৫ সেন্টিমিটারের কম ফাঁসবিশিষ্ট জাল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি নেই।

গোকুল-মথুরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আগে বিলকুমারিতে নানা জাতের দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন মৌসুমেও মাছ নেই। আমরা বাঁচব কীভাবে?”

স্থানীয় জেলে আফাজ উদ্দিন কবিরাজ ছন্দে ছন্দে বিলুপ্ত দেশীয় মাছের নাম উচ্চারণ করে বিল রক্ষার আহ্বান জানান, যা মানববন্ধনে উপস্থিত জনতার মধ্যে আবেগ সৃষ্টি করে।

গ্রীন কোয়ালিশনের আহ্বায়ক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, “আইনে নিষেধ থাকলেও মাঠে তার প্রয়োগ নেই। প্রশাসনকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। চায়না দুয়ারি জাল আমদানি, বিক্রি ও উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।”

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। দাবিগুলো হলো—

১. বরেন্দ্র অঞ্চলসহ সারাদেশে চায়না দুয়ারি জালসহ সব বিদেশি ক্ষতিকর জাল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
২. অবৈধ জাল ও রাসায়নিক হানিটোপের আমদানি, উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. জেলে সম্প্রদায়ের বিকল্প জীবিকা, প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা ও মৌসুমী ভাতা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. দেশীয় মাছ রক্ষায় নদী ও খাল-বিলের লিজ প্রথা বাতিল করে প্রকৃত জেলেদের মাছ আহরণের অধিকার দিতে হবে।
৫. জেলে সম্প্রদায়ের সামাজিক নিরাপত্তা, রেশন ও মৌসুমী ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাকে ঐতিহ্য অনুযায়ী পুনর্বিন্যাস ও সম্প্রসারণ করতে হবে।

জেলেরা বলেন, “আমরা শুধু মাছ নয়, দেশের জলজ সম্পদ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষার জন্য লড়ছি।”