― Advertisement ―

spot_img

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ঋতস্বরের নবীন বরণ

ডালিয়া হালদার, ববি প্রতিনিধিঃ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋতস্বরের উদ্যোগে ২০২৬ সালের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা হলে আয়োজিত...
প্রচ্ছদশিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনক্যাম্পাসBUCSU'র গঠনতন্ত্রে বাংলা নাম না থাকায় শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ

BUCSU’র গঠনতন্ত্রে বাংলা নাম না থাকায় শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ

ডালিয়া হালদার, ববি প্রতিনিধিঃ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (BUCSU)-এর গঠনতন্ত্র ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদিত হলেও এর বাংলা সংক্ষিপ্ত রূপ ‘বাকসু’ অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি—একটি ছাত্র সংসদের নাম শুধুই পরিচয়ের প্রতীক নয়; এটি ভাষা, সংস্কৃতি ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ। সেখানে ইংরেজি নাম থাকলেও বাংলা ‘বাকসু’ না থাকা প্রশাসনের দুর্বলতা ও সাংস্কৃতিক অবহেলা বলেই তারা মনে করছেন।

জানা গেছে, বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ তাদের ছাত্রসংসদের সংক্ষিপ্ত নাম হিসেবে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘বাকসু’ ব্যবহার করে থাকে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তাপ ছড়ায়।

গবেষণা–বিবেচনার বদলে বিতর্ক এড়াতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠনতন্ত্রে শুধু ইংরেজি ‘BUCSU’ রেখে বাংলা নাম অন্তর্ভুক্ত করেনি। তবে প্রশাসন বলছে—নামটি যে যার মতো উচ্চারণ করতে পারবে।

তবে সরকারি বিএম কলেজের ছাত্রসংসদের সংবিধানে কোথাও ‘বাকসু’ নেই। সেখানে নাম উল্লেখ আছে ‘ব্রজমোহন কলেজ ছাত্র সংসদ’। সংক্ষিপ্ত করলে তা হতে পারে BCCSU। এমনকি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২১ সালে প্রকাশিত পরিপত্রে কলেজের নামের সঙ্গে ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ শব্দ যুক্ত না করার নির্দেশনাও রয়েছে। তাই দুই প্রতিষ্ঠানের নাম নিয়ে বিভ্রান্তি মূলত অনানুষ্ঠানিক ব্যবহার থেকেই সৃষ্টি হয়েছে।

৩০ নভেম্বর সিন্ডিকেট সভায় BUCSU-এর নাম অনুমোদন শিক্ষার্থীরা ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও বাংলা নাম বাদ পড়াকে অনেকেই অপমানজনক বলে মনে করছেন। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় প্রতিষ্ঠান, তাই শিক্ষার্থীদের পরিচয়, সাংস্কৃতিক বাস্তবতা ও আবেগ বিবেচনায় বাংলা নাম যুক্ত করাই যৌক্তিক।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী এস.এম. ওহেদুর রহমান বলেন, “Barishal University Central Students Union-এর ইংরেজি সংক্ষিপ্ত রূপ BUCSU। এর একমাত্র বাংলা রূপ ‘বাকসু’। এখানে দ্বিচারিতা বা আপসের কোনো সুযোগ নেই। দক্ষিণবঙ্গের পলিটিক্যাল স্ট্যান্স অবশ্যই সুস্পষ্ট হতে হবে।”

আরও পড়ুনঃ শিশুদের ভবিষৎ জিম্মি করে রামগঞ্জে প্রাথমিকের শিক্ষকদের কর্মবিরতি

২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রিপন মণ্ডল বলেন, “সিন্ডিকেটে গঠনতন্ত্র অনুমোদন অবশ্যই ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে ইংরেজিতে BUCSU থাকার পরও বাংলায় ‘বাকসু’ না রাখা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন তৈরি করছে। আমাদের দাবি পরিষ্কার—বাংলা নাম আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করতে হবে।”

এ বিষয়টি নিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল বলেন, “আইনি জটিলতা এড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমরা মূলত দ্রুত সময়ের মধ্যে ছাত্রসংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে চাইছি। যেভাবেই হোক, শিক্ষার্থীদের মঙ্গলই আমাদের লক্ষ্য।”

শিক্ষার্থীরা বলছেন—যদি BUCSU থাকে, তবে ‘বাকসু’ যুক্ত করতেই হবে। কারণ এটি শুধু একটি নাম নয়; বরং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিচয়, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের অংশ। এখন দেখার বিষয়—শিক্ষার্থীদের এই দাবি কত দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের টেবিলে বাস্তব রূপ পায়।