
তানিম তানভীর, ইবি প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার নিশ্চিতকরণ, তার নামে হলের নামকরণসহ চার দফা দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি।
মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) সংগঠনটির পক্ষ থেকে উপাচার্য প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর কাছে এই স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ছয় মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। একই সঙ্গে সাজিদ আব্দুল্লাহর নামে হলের নামকরণের বিষয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতি থাকলেও সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করা হয়নি, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে চার দফা দাবি উত্থাপন করে সংগঠনটি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করা, ‘শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ’ নামে একটি হলের নামকরণ করা, মামলার তদন্ত অগ্রগতি তদারকির জন্য ছাত্র-শিক্ষক সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা এবং পূর্বে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা।
এ বিষয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, সিআইডি এখন পর্যন্ত কোনো উপযুক্ত তদন্ত প্রতিবেদন দেয়নি। তিনি জানান, প্রয়োজন হলে তিনি স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছেও যাবেন এবং তদন্তের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের কাতারে দাঁড়াতে হলে সেখানেও উপস্থিত থাকতে প্রস্তুত রয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ কালীগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই মাদকসেবীর তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড
হলের নামকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্যরা নিয়ে থাকেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে আবরার ফাহাদের নাম উল্লেখ করে বলেন, পুরো দেশের প্রেক্ষাপটে তার নামে হলের নামকরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ জুলাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হল পুকুর থেকে আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ৩ আগস্ট প্রকাশিত ভিসেরা রিপোর্টে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। ঘটনার পর থেকেই নিরাপদ ক্যাম্পাস ও সাজিদ হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।



