
বুটেক্স প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে বিশেষ মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঈদের ছুটিতেও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও জরুরি সেবা সচল রাখতে দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সম্মান জানাতেই এ আয়োজন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের সময় অধিকাংশ মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়িতে গেলেও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ড্রাইভার, অফিস সহায়ক ও ইউটিলিটি শাখার কর্মীরা দায়িত্ব পালন করে যান। তাদের এই ত্যাগ ও দায়িত্ববোধের স্বীকৃতি হিসেবে বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনের উদ্যোগে ঈদের দিন দুপুরে একসঙ্গে খাবারের আয়োজন করা হয়।
আয়োজনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তৈরি হয় পারিবারিক পরিবেশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক রুহুল আমিন বলেন, “অনেক কর্মচারী পরিবার ছাড়া ঢাকায় থাকেন। ঈদের দিনে আলাদা করে রান্না করা বা ভালোভাবে খাবারের ব্যবস্থা করা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই উদ্যোগ আমাদের জন্য বিশেষ অনুভূতির।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রাইভার মো. তালুকদার বলেন, “গত ঈদেও এমন আয়োজন ছিল, এবারও হয়েছে। যারা দায়িত্বে থাকি, তাদের জন্য এটি অনেক আনন্দের বিষয়। সবাই একসঙ্গে খেতে পেরে ভালো লেগেছে।”
ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাকর্মী গোলাম মোস্তফা বলেন, “ঈদের সময় সবাই ছুটিতে যেতে পারেন না। পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করতে হয়। তবে প্রশাসনের এমন উদ্যোগ আমাদের মানসিকভাবে স্বস্তি দেয়। এতে মনে হয় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারেরই অংশ।”
আয়োজক কমিটির প্রধান স্টেট অফিসার বাবুল আক্তার জানান, উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর টানা তৃতীয়বারের মতো ঈদুল আজহা উপলক্ষে এই বিশেষ ভোজের আয়োজন করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ঈদে ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য কুরবানির উদ্যোগ নিয়েছে জবি প্রশাসন
তিনি বলেন, “ছুটির দিনেও দায়িত্ব পালনকারী কর্মচারীরা বিষয়টিকে খুব ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। তাদের মুখের হাসিই আমাদের প্রাপ্তি।”
ঈদ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে যারা পরিবার ছেড়ে ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানোই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। আমরা চাই তারা অনুভব করুন যে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার সবসময় তাদের পাশে আছে।”
নিস্তব্ধ ক্যাম্পাসে ঈদের এই আয়োজন দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন



