― Advertisement ―

spot_img

জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের পুকুরে গোসলে নেমে দুই নারীর মৃত্যু

আলি উল আজিম নিলয়, জবি প্রতিনিধিঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের পুকুরে গোসল করতে নেমে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেলে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের...
প্রচ্ছদশিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনক্যাম্পাসজবি শিক্ষার্থীদের আবাসন ও বিশেষ বৃত্তি নিশ্চিতের দাবিতে জকসুর মানববন্ধন

জবি শিক্ষার্থীদের আবাসন ও বিশেষ বৃত্তি নিশ্চিতের দাবিতে জকসুর মানববন্ধন

আলি উল আজিম নিলয়, জবি প্রতিনিধিঃ কেরানীগঞ্জে নির্ধারিত ৭ একর জমিতে চলতি বছরের মধ্যেই ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসন চালু এবং আবাসন বৃত্তির বকেয়া ৪৬ কোটি টাকা দ্রুত পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।

একই সঙ্গে গত ৪ আগস্ট ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী, জকসু প্রতিনিধি ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিতের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জকসুর নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে জকসুর নেতারা অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে বরাদ্দ পাওয়া অর্থ ব্যবহারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। অস্থায়ী আবাসন চালুর পরিবর্তে স্থায়ী আবাসন প্রকল্পের নামে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, “অস্থায়ী আবাসনের বরাদ্দের টাকা নয়ছয় করার জন্য ‘স্থায়ী আবাসন’ নাম দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন টেন্ডারবাজির পরিকল্পনা করছে। শিক্ষার্থীরা যেখানে পুরান ঢাকায় মেসে কষ্টে দিনাতিপাত করছে, সেখানে তাদের বঞ্চিত করে এ ধরনের হীন পরিকল্পনা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং এ বছরেই ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ৭ একর জমিতে তিন মাসের মধ্যে ১ হাজার ৬০০-এর বেশি শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসন চালুর কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বরং ১০ তলা ভবন নির্মাণের অজুহাতে স্থায়ী আবাসন প্রকল্পের নামে দীর্ঘসূত্রিতা ও টেন্ডারকেন্দ্রিক নানা পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

৭ একরের সাড়ে ৬০০ শতাংশ জমির প্রকৃত ব্যবহার স্পষ্ট করা হয়নি দাবি করে তিনি বাস টার্মিনালের জন্য জমির কোনো অংশ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেন। তার ভাষায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধার আগে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার ও জমির এক চুল পরিমাণও কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না।

জকসুর এজিএস মাসুদ রানা বলেন, “২০২৪ সালে আমরা যখন আন্দোলন করেছিলাম, তখন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার সিদ্ধান্তের পর আমরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম যে, আমাদের সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু এই প্রশাসনের অদক্ষতা, অকার্যকারিতা ও নানা ধরনের গড়িমসির কারণে আজ আবার আমাদের এখানে দাঁড়াতে হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির পরিবর্তে টেন্ডারবাজি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগেই তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার চান এবং সেই অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও জানান তিনি।

জকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে অর্থ পাওয়ার পর প্রশাসন চাইলে তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ করতে পারত। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুনঃ র‍্যাব পরিচয়ে জবির ছাত্রী মেস থেকে শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা

উপাচার্যের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আপনি যদি এই কাজ না করেন, তাহলে একজন ব্যর্থ উপাচার্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার সেই সক্ষমতা ও যোগ্যতা রয়েছে। তাই আমরা আশা করছি, চলতি বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের এই দাবি বাস্তবায়ন করবেন।”

জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীদের অধিকার ও আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসে বসে থেকে পুরান ঢাকার মেসে থাকা শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব নয়।”

তিনি বলেন, আবাসন বৃত্তির ৫৬ কোটি টাকার মধ্যে বাকি ৪৬ কোটি টাকা দ্রুত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের মধ্যে ৭ একর জমিতে ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

দাবি বাস্তবায়ন না হলে শিক্ষার্থীরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন জকসুর এই নেতা।

এদিকে মানববন্ধনে গত ৪ আগস্ট ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী, জকসু প্রতিনিধি ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। ওই ঘটনার বিচার না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমালোচনা করেন বক্তারা।

হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।