
আলি উল আজিম নিলয়, জবি প্রতিনিধিঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এবং এ নিয়ে সৃষ্ট ভুল-বোঝাবুঝির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সাম্প্রতিক একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রক্টরের দেওয়া আহ্বানকে ঘিরে এ বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। ক্যাম্পাসে পশু জবাই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আলোচনা ও বিভ্রান্তি নিরসনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিবৃতি দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, গত ১২ অক্টোবর ক্যাম্পাসে ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৭তম ব্যাচের একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গরুর মাংস ও খিচুড়ি রান্নার বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির কমিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রক্টরের উদ্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই বিষয়টির সমাধান করা হয়। পরদিন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আলোচনা ও বিবৃতি প্রদানের মাধ্যমে বিষয়টি আরও সন্তোষজনকভাবে নিষ্পত্তি হয় বলে জানায় প্রশাসন।
তবে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ের সম্ভাব্য কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিষয়টি প্রক্টরের নজরে এলে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির অবনতি এড়াতে তিনি ক্যাম্পাসের ভেতরে পশু জবাই করা যাবে না বলে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পশু জবাই করা হলে সিটি করপোরেশনের আইন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
প্রক্টরের ওই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে এ নিয়ে তৈরি হওয়া ভুল-বোঝাবুঝির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আরও পড়ুনঃ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় জবি প্রশাসনের উদ্যোগে ঘটনার শান্তিপূর্ণ সমাধান
বিবৃতিতে প্রশাসন স্পষ্ট করে জানায়, ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যেকোনো অনুষ্ঠান উদ্যাপনের অধিকার সবার রয়েছে। তবে একটি উদ্যাপন যেন অন্য কোনো উদ্যাপনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সহযোগিতা কামনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সাথে ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যেকোনো অনুষ্ঠান উদ্যাপনের অধিকার সবার রয়েছে বলে স্পষ্ট করেছে প্রশাসন।



