― Advertisement ―

spot_img

ইবিতে চালু হচ্ছে ফ্রি সাহরি-ইফতার প্রজেক্ট

তানিম তানভীর, ইবি প্রতিনিধিঃ পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে মাসব্যাপী ফ্রি সাহরি ও ইফতার কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'হ্যান্ডস ফর হিউম্যানিটি'।আগামী...
প্রচ্ছদশিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনক্যাম্পাসহাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়, ইবিতে মিষ্টি বিতরণ 

হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়, ইবিতে মিষ্টি বিতরণ 

তানিম তানভীর, ইবি প্রতিনিধিঃ গত বছরের জুলাই-অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ রায়ে উল্লাস করছে সারাদেশসহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা মিষ্টি বিতরণ করেছেন।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে ঝালচত্বরে শেখ হাসিনার রায় পর্দায় দেখানোর ব্যবস্থা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখা। এসময় সরাসরি রায় দেখতে ভিড় করেন শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, রায়ে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে অন্য আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রাজস্বাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

শিক্ষার্থী তানভীর মন্ডল বলেন, দীর্ঘদিনের বহুল প্রত্যাশিত খুনি হাসিনার রায় হয়েছে। জুলাইয়ের গণহত্যাসহ দীর্ঘ ১৭বছরের অন্যায়, দুর্নীতি ও নির্যাতনের স্ট্রিমরোলার চালিয়েছিল খুনি হাসিনা। আজ  তার বিরদ্ধে এক ঐতিহাসিক রায় হয়েছে। এটি আপামর সারা বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশার ছিল। ১৬ হাজার শহীদের রক্তের বিনিময় আমরা হয়তো কিছুটা স্বাদ পেতে যাচ্ছি। আজকে শুধু রায় হয়েছে কিন্তু আমাদের দাবি ইন্টারপ্রোলের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার পলাতক শেখ হাসিনাকে দেশে নিয়ে রায়ের ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবির সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন,  জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যা চালানো খুনি হাসিনার বিরূদ্ধে যে রায় এসেছে আমরা এই রায়ে খুশি। তবে আমাদের দাবি থাকবে অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে যাতে ভারত থেকে হাসিনা ও তার সহযোগীদেরকে দেশে এনে তাদের শাস্তি কার্যকর করে। এতে জুলাইয়ের যে আকাঙ্ক্ষা তা কিছুটা হলেও বাস্তবায়িত হবে। পাশাপাশি জুলাই শহীদসহ বাংলাদেশপন্থী যারা  আত্মত্যাগ করেছে তাদের আত্মা শান্তি পাবে। 

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে যে রায় এসেছে আমরা এতে আনন্দিত। এখানে আইনের কোন ব্যাক্তই ঘটেনি। যথাযথ আইন মেনেই মাননীয় বিচারক রায় দিয়েছেন। আমাদের প্রত্যাশা ইন্টারপোলের মাধ্যমে হাসিনা ও আসাদুজ্জাখান কামালকে ভারত থেকে দেশে এনে বিচার কার্যকর করবে। 

আরও পড়ুনঃ নবীনদের বরণ করে নিল রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটি

শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, আমাদের ছাত্র-জনতার একাংশকে হত্যা করে লাশগুলো পুড়িয়ে ফেলেছে, গণকবর দিয়েছে। এই হত্যাযজ্ঞ যারা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আদালত রায়ের সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আমাদের দাবি থাকবে দ্রুতই এটি কার্যকর করা হোক। পাশাপাশি এখনো যারা হাসিনার হাতকে মৌন বা গৌণভাবে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে  তাদেরকেও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। 

উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তিনটি অপরাধের পৃথক অভিযোগে তাকে এই দণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া আরও দুইটি অভিযোগে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এছাড়া, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আর, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।