― Advertisement ―

spot_img

ত্যাগের ঈদে মানবিক উদ্যোগ: বুটেক্সে দায়িত্বরত কর্মচারীদের নিয়ে বিশেষ ভোজের আয়োজন

বুটেক্স প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে বিশেষ মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঈদের ছুটিতেও ক্যাম্পাসের...
প্রচ্ছদরাজধানীমোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে আতঙ্ক, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে আতঙ্ক, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী গ্রুপের দৌরাত্ম্যে জনজীবন ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠছে। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক কারবার ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও প্রভাবশালী ‘বড় ভাইদের’ আশ্রয়ে এসব অপরাধ দমনে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোহাম্মদপুর থানার আওতাধীন প্রায় ২ দশমিক ৮৭ বর্গমাইল এলাকায় অন্তত ১৬টি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এসব গ্রুপে সদস্য সংখ্যা প্রায় ১০৫ জন। তাদের পেছনে অন্তত ১৭ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যাদের মধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীরাও রয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আধিপত্য বিস্তার ও মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ছিনতাই ও হত্যার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী এলাকা এলাকায় সাম্প্রতিক দুইটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কিশোর গ্যাং হিসেবে পরিচিত হলেও এসব গ্রুপ এখন সংগঠিত অপরাধচক্রে পরিণত হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এলাকায় সক্রিয় গ্রুপগুলোর মধ্যে রয়েছে—পাটালি, লেভেল হাই, আনোয়ার, ফরহাদ, আর্মি আলমগীর-নবী, ডাইল্লা, এলেক্স, আকবর, গাংচিল, ল ঠেলা, আশরাফ, স্টার বন্ড, ভাইব্বা ল কিং, ‘চেতালেই ভেজাল’, টক্কর ল এবং ঘুটা দে গ্রুপ। প্রতিটি গ্রুপ নির্দিষ্ট এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে চাঁদাবাজি, মাদক বাণিজ্য ও জমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত।

সম্প্রতি রায়েরবাজার এলাকায় ‘এলেক্স গ্রুপ’-এর নেতা ইমন হোসেন ওরফে এলেক্স ইমনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ গ্রুপের হামলায় তিনি নিহত হন।

আরও পড়ুনঃ মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলে হতাশা ও শঙ্কা

ঢাকা মহানগর পুলিশ–এর অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই; তারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীনদের ছায়া নেয়। তবে তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন–এর কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের আগস্টের পর থেকে বিপুল সংখ্যক কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হলেও অনেকেই জামিনে বের হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। ফলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তাদের মতে, কার্যকর বিচার ও স্থায়ী নজরদারি ছাড়া এই পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।