― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদশিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনক্যাম্পাসনিজস্ব শিক্ষককেই ট্রেজারার চায় জবি, বহিরাগত নিয়োগ হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

নিজস্ব শিক্ষককেই ট্রেজারার চায় জবি, বহিরাগত নিয়োগ হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

আলি উল আজিম নিলয়, জবি প্রতিনিধিঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) পদে বহিরাগত কাউকে নিয়োগ না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকে যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। একই সঙ্গে এ দাবিকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘টিম জগন্নাথ’ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাউঞ্জে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির নেতারা এ দাবি জানান।

এসময় দাবি উপেক্ষা করে বাইরে থেকে ট্রেজারার নিয়োগ দেওয়া হলে কর্মবিরতি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার মতো কঠোর কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থেকে দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

লিখিত বক্তব্যে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠানের বাস্তবতা, প্রশাসনিক কাঠামো ও সংকট সম্পর্কে বহিরাগতদের তুলনায় বেশি অবগত। তাই ট্রেজারারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বাইরের কাউকে নিয়োগ দেওয়া হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের শিক্ষকরা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাহলে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন বাইরের কাউকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হবে?”

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪৫ জন অধ্যাপকসহ মোট ৭৩২ জন শিক্ষক রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব শিক্ষকের মধ্য থেকেই যোগ্য ব্যক্তিকে ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব।

শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালার প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষক সমিতির সহকারী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাসুদ রানা বলেন, ভবিষ্যতে শিক্ষক নিয়োগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে ট্রেজারার নিয়োগ দেওয়া হলে প্রয়োজন হলে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়েও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে।

তবে শিক্ষক নিয়োগে নির্দিষ্ট কোটা নির্ধারণের বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. ইমরানুল হক। তিনি বলেন, “শতকরা হার নির্ধারণ নয়, মেধার ভিত্তিতেই জবির শিক্ষার্থীদের শিক্ষক হওয়ার সর্বোচ্চ সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।”

আরও পড়ুনঃ জবির লোক প্রশাসনের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে অধ্যাপক ড. মো. নঈম আকতার সিদ্দিক

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশক্তির মূখ্য সংগঠক ফেরদাউস শেখ বলেন, অতীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষক নিয়োগের নজির রয়েছে, যা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বৈষম্যমূলক ছিল। ভবিষ্যতে এমন কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়া মেনে নেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হবেন।

শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. মঞ্জুর মোর্শেদ ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষক সমিতি শুধু শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষার সংগঠন নয়; বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্বার্থ এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘টিম জগন্নাথ’ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।