
তাওহিদ ইসলাম, ইবি প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. মতিনুর রহমান বলেছেন, নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধের দিক থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় এগিয়ে। এটিই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাতন্ত্র্য ও সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য।
শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসিতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত জ্ঞান ও সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যয় সাধারণ মানুষের করের অর্থ থেকে আসে। তাই মানবিক, যোগ্য ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে দেশের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞান অর্জনের বিস্তৃত সুযোগ থাকলেও পেরিফেরি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে প্রশাসন কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক সক্ষমতা বাড়াতে শিগগিরই জাপানি ও চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
উপাচার্য আরও বলেন, থিওলজি অনুষদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষকরা অত্যন্ত মেধাবী ও দক্ষ। তাদের তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা গ্র্যাজুয়েটরা দেশ-বিদেশে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নে পুরোনো সীমানা প্রাচীর সংস্কার, স্থায়ী স্টেডিয়াম নির্মাণ, সংযোগ সড়কের উন্নয়ন এবং শিক্ষক সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. মাহ্দী আমিন, ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, ইবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্পর্ক অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম শাহ।
আরও পড়ুনঃ পানামনগরে তরুণ কলাম লেখক ফোরাম জবি শাখার নবীনবরণ ও বার্ষিক বনভোজন সম্পন্ন
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দুই হাজারের বেশি নবীন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন এবং ইসলামিক ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব অনুষদের নবীন শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। দ্বিতীয় পর্বে ব্যবসায় প্রশাসন, বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্যবিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন, নবীন শিক্ষার্থীদের আপ্যায়ন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।



