― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদশিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনক্যাম্পাসআবৃত্তি, সম্মাননা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে জবিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘৬ষ্ঠ আবৃত্তি উৎসব’

আবৃত্তি, সম্মাননা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে জবিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘৬ষ্ঠ আবৃত্তি উৎসব’

আলি উল আজিম নিলয়, জবি প্রতিনিধিঃ আবৃত্তি, আলোচনা, গুণীজন সম্মাননা, পুরস্কার বিতরণ এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘৬ষ্ঠ আবৃত্তি উৎসব-২০২৬’। সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংসদের আয়োজনে দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

উৎসবে আন্তঃবিভাগ নজরুল আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, গুণীজন সম্মাননা এবং আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, এমপি। উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন, এমপি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। এছাড়া শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক, আবৃত্তি সংসদের ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা কামরুল ইসলাম জুয়েল এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন ফরিদ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আবিদুল হক রাহাত এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মারুফা আক্তার লিজা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, দেশের সংস্কৃতি খাতকে পুনরুজ্জীবিত ও পরিশীলিত করতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ভাষা ও সংস্কৃতিতে শালীনতা ফিরিয়ে এনে একটি অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও সংস্কৃতিচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি বলেন, জবি আবৃত্তি সংসদ বছরজুড়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

আরও পড়ুনঃ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি- সম্পাদকের অপসারণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন বলেন, আবৃত্তি শুধু শুদ্ধ উচ্চারণের চর্চা নয়, এটি মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও প্রতিবাদী চেতনা বিকাশেরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তরুণ প্রজন্মকে মানবিক ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, কর্মক্ষেত্রের উপযোগী গ্র্যাজুয়েট তৈরির পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক গড়ে তোলাও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব। এজন্য শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও কবি আবদুল হাই শিকদারকে ‘কবি সম্মাননা জবিয়ান পদক’ এবং আবৃত্তিশিল্পী মুন্সী মো. রেজাউল হোসেইন টিটোকে ‘আবৃত্তিশিল্পী সম্মাননা জবিয়ান পদক’ প্রদান করা হয়।

নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত আন্তঃবিভাগ আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন এইচ এম ফাহিম। এছাড়া আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খিজির ফাইয়াজসহ বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।

দিনব্যাপী আয়োজনের শেষ পর্বে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঘোষণাফলকের সামনে প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম সম্মাননা প্রদর্শন করেন।