― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদশিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনক্যাম্পাসশিক্ষক সমিতির বিবৃতিতে হাসপাতালে অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা না থাকায় অধ্যাপক বিলাল'র ক্ষোভ

শিক্ষক সমিতির বিবৃতিতে হাসপাতালে অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা না থাকায় অধ্যাপক বিলাল’র ক্ষোভ

আলি উল আজিম নিলয়, জবি প্রতিনিধিঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সম্প্রতি সংঘটিত হামলার ঘটনায় ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবরুদ্ধ হওয়ার বিষয়টি শিক্ষক সমিতির বিবৃতিতে উল্লেখ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (জবিশিস) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাউঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় একই ঘটনায় হাসপাতালে অবরুদ্ধ হওয়া আরেক শিক্ষক অধ্যাপক ওমর ফারুকও উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক বিলাল হোসাইন বলেন, গত ৪ আগস্ট ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে গিয়ে তিনি ও অধ্যাপক ওমর ফারুক দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। পরে পুলিশের নিরাপত্তায় তারা হাসপাতাল ত্যাগ করেন। তবে ওই ঘটনার পর শিক্ষক সমিতির দেওয়া বিবৃতিতে তাদের অবরুদ্ধ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

তিনি বলেন, “আজ সকালেও আমি শিক্ষক সমিতির সভায় উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, ঘটনার রাতে শিক্ষক সমিতি যে বিবৃতি দিয়েছে, সেখানে হাসপাতালে আমাদের অবরুদ্ধ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। পরে তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে পৃথক একটি বিবৃতি দেওয়া হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক বিলাল বলেন, “অছাত্রদের ক্যাম্পাসে কোনো স্থান নেই। তারা কেন ক্যাম্পাসে থাকবে? আমরা একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় চাই, যেখানে নিয়মিত শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে তাদের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। যাদের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে, তারা অ্যালামনাইয়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন। কিন্তু অছাত্ররা যদি শিক্ষার্থী ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালায়, তাহলে আমরা নীরব থাকব না।”

হামলার দিনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “হাসপাতালে গিয়ে যে অমানবিক দৃশ্য দেখেছি, তা মেনে নেওয়া কঠিন। আমার বিভাগের শিক্ষার্থী শাহিন মিয়াকে বেদম মারধর করা হয়েছে। জকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএসকে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। জকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য আবদুল্লাহ আল ফারুক ব্যথায় কাতরাচ্ছিল।”

আরও পড়ুনঃ ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিতের দাবিতে জবি উপাচার্যের কাছে ছাত্রদলের স্মারকলিপি

ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “অছাত্রদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব প্রক্টরিয়াল বডির। আজ সকালে আইডি কার্ড যাচাই করে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হলেও কিছু অছাত্রকে ক্যাম্পাসের ভেতরে দেখা গেছে। যাদের ছাত্রত্ব শেষ, তারা কীভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলেন? ভবিষ্যতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে এর দায় প্রক্টরিয়াল বডিকেই নিতে হবে।”

শিক্ষক সমিতির ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শিক্ষক সমিতি যথাযথ উদ্যোগ নিলে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে সংবাদ সম্মেলন করতে হতো না। এই সংবাদ সম্মেলন শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকেই হওয়া উচিত ছিল।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের বিষয়টি তিনি শিক্ষক সমিতির সভায় উত্থাপন করেছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল, জকসু, জাতীয় ছাত্রশক্তি, ছাত্রফ্রন্ট ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে বিভিন্ন সংগঠনের অন্তত ৫০ জন আহত হন। পরে আহতদের দেখতে গিয়ে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই শিক্ষকও অবরুদ্ধ হওয়ার অভিযোগ ওঠে।