― Advertisement ―

spot_img

রাজশাহী কলেজে শিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম, রাজশাহী কলেজ প্রতিনিধিঃ রাজশাহী কলেজে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কলেজ শাখা।বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে...
প্রচ্ছদশিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনক্যাম্পাসউপাধ্যক্ষের কক্ষে ডেকে শিক্ষার্থীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

উপাধ্যক্ষের কক্ষে ডেকে শিক্ষার্থীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম, রাজশাহী কলেজ প্রতিনিধিঃ রাজশাহী কলেজের উপাধ্যক্ষের কক্ষে কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসের একজন শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে তার সঙ্গে ছাত্রদলের ধস্তাধস্তির অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৮ অক্টোবর) কলেজ প্রশাসনের উপস্থিতিতেই ঘটনাটি ঘটেছে, যা কলেজজুড়ে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী রুহুল ইসলাম, যিনি কলেজ হোস্টেলের এফ ব্লকের একজন শিক্ষার্থী, জানান—তার নামে অফিসিয়ালি হোস্টেলের সিট বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের নেতারা দীর্ঘদিন ধরে তাকে সিট ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। সম্প্রতি ছাত্রদল তার বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজির’ অভিযোগ তুলে উপাধ্যক্ষের কক্ষে হাজির হতে বলে।

সেদিন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলী, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ইব্রাহিম আলী, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর ড. সেরাজ উদ্দিন, ছাত্রদল সভাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ আবিরসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

রুহুল অভিযোগ করেন, “বিদ্যুৎ বিল বাবদ টাকা চাওয়ার বিষয়টিকে চাঁদাবাজির অভিযোগে পরিণত করে আমাকে অপমানের ফাঁদে ফেলা হয়। উপাধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকেই ছাত্রদল সভাপতি আবির ও তার সহযোগীরা আমাকে মারতে উদ্যত হয়। শিক্ষকরা উপস্থিত না থাকলে হয়তো আমাকে পিটিয়ে আহত করা হতো।”

উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ইব্রাহিম আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “আমার কক্ষে এমন ঘটনা ঘটবে—এটা কল্পনাও করিনি। আমরা শিক্ষকরা বসে থাকা অবস্থায় ছাত্রদলের কর্মীরা এক শিক্ষার্থীকে মারতে উদ্যত হয়। আমরা তাকে রক্ষা করেছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।”

আরও পড়ুনঃ নালিতাবাড়ীতে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন

তবে ছাত্রদল সভাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ আবির বলেন, “ওই শিক্ষার্থী চাঁদা দাবি করেছিল, তাই তাকে ডাকা হয়। সেখানে সে অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে আমরা প্রতিবাদ জানাই, তবে কোনো মারামারি হয়নি।”

কলেজের কয়েকজন শিক্ষক জানান, উপাধ্যক্ষের কক্ষে অধ্যক্ষ-শিক্ষকদের সামনে রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের এমন আচরণ রাজশাহী কলেজের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষের উপস্থিতিতে এমন দুঃসাহস প্রশাসনিক শৃঙ্খলার প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। এটি শিক্ষাঙ্গনের মর্যাদার ওপর আঘাত।”

এদিকে কলেজ প্রশাসন ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। তবে শিক্ষকরা বলছেন, শুধুমাত্র তদন্ত নয়, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি—যাতে ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক সংগঠন শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে।