
বুটেক্স প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি রুটে বিনামূল্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) প্রশাসন। ঈদে বাড়ি যাওয়ার সময় টিকিট সংকট, তীব্র যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ নানা ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
রোববার (২৪ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বগুড়া, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা রুটে তিনটি বাস ছেড়ে যায়। এতে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী নির্বিঘ্নে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন। বিনামূল্যে এ যাতায়াত সুবিধা পেয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮তম ব্যাচের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী শোয়াইব আল জান্নাত বলেন, “ঈদের ঠিক আগে প্রতিটি বিভাগীয় শহরের জন্য বাসের ব্যবস্থা করা প্রায় অসম্ভব। তবুও এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও বগুড়া রুটে বাস দেওয়ার মতো কাজটি মুরাদ স্যার করেছেন। প্রথমবার হওয়ায় কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। সব বিভাগীয় শহরে বাস দেওয়া সম্ভব হয়নি এবং অল্প সময়ের মধ্যে সবাইকে জানানোও যায়নি। তবে আজ যে শুরুটা হলো, তা গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে।”
একই ব্যাচের ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আলভী আহমেদ বলেন, “দেশের অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য ঈদযাত্রায় বাস সুবিধা দিয়ে থাকে। যদিও বুটেক্সে পর্যাপ্ত বাস নেই, তারপরও উপাচার্যের সহযোগিতায় এবং যানবাহন কর্মকর্তার উদ্যোগে একটি নিজস্ব বাসের পাশাপাশি বিআরটিসির দুটি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটি বুটেক্সে প্রথমবারের মতো ঈদ উপলক্ষে পরিবহন সেবা।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের এ উদ্যোগের প্রশংসা করে ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও বগুড়াগামী যাত্রী মো. নাঈম সরকার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ আমাদের জন্য বড় স্বস্তি। আগে টিকিট পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলেও এবার কোনো ভোগান্তি ছাড়াই বাড়ি ফিরতে পারছি।”
ময়মনসিংহগামী আরেক শিক্ষার্থী তাসনিম হাসান জিসান বলেন, “সাধারণত আগে থেকে টিকিট না কাটলে বাড়ি ফেরা নিয়ে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগের কারণে এবার নিরাপদ ও দ্রুত সময়ে বাড়ি যেতে পারছি। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবো।”
আরও পড়ুনঃ সাত কলেজ নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি আবেদন শুরু ১০ জুন
বিশ্ববিদ্যালয়ের যানবাহন কর্মকর্তা ড. মো. মুরাদ আহমেদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও আনন্দময় যাত্রার ব্যবস্থা করতে পেরে ভালো লাগছে। ভবিষ্যতেও প্রতি ঈদে পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করবো। এজন্য বাজেট বরাদ্দ ও পরিবহন খাতে নির্দিষ্ট অর্থায়নের বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, “শিক্ষার্থীদের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও আনন্দময় করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই তারা নিরাপদে পরিবারের কাছে পৌঁছাক এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করুক। ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও বিস্তৃত পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।”
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে ফিরতি বাস ও সব বিভাগীয় শহরে যাতায়াত সুবিধা চালুর দাবিও জানিয়েছেন।



