
আলি উল আজিম নিলয়, জবি প্রতিনিধিঃ ‘আমার সাজিদ যদি বেঁচে থাকত, তাহলে আজ এখানে আমার সাজিদই বসে থাকত। আমি আসতাম না। আমি এসেছি একজন শহীদের মা হিসেবে। প্রতিদিন রাতে আমার সাজিদের একটি গেঞ্জি বুকে নিয়েই ঘুমাই।’
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জবি শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: স্ফুলিঙ্গ থেকে চলমান বিপ্লব’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
কথাগুলো বলতে বলতে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ইকরামুল হক সাজিদের মা। ছেলেকে হারানোর শোক আর স্বামীকে হারানোর বেদনা তাঁর প্রতিটি বাক্যে ফুটে উঠলে অডিটোরিয়ামে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
শহীদ সাজিদের মা বলেন, ‘সাজিদ ২০২৪ সালের আগস্টে শহীদ হয়েছে। এরপর ২০২৫ সালের আগস্টে ওর বাবাও মারা গেছেন। আজ আমার সাজিদও নেই, ওর বাবাও নেই। আমি আর আমার মেয়ে পৃথিবীতে বেঁচে আছি, কিন্তু এটাকে বেঁচে থাকা বলা যায় না।’
আরও পড়ুনঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আমরা অনেক বেশি ঋণী: নাহিদ ইসলাম
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘সাজিদ ছিল আমার একমাত্র ছেলে। কোনোভাবে দিন পার করছি। আমি যেন জিন্দা লাশের মতো জীবন কাটাচ্ছি। প্রতিদিন রাতে আমার ছেলের একটি গেঞ্জি বুকে নিয়ে ঘুমাই। এখনো সেই গেঞ্জিটাই আমার একমাত্র সান্ত্বনা। আপনারা আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন। আমার আর আমার মেয়ের জন্যও দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন আমাদের নেক হায়াত দান করেন।’
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এছাড়া আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল-আমিন, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান এবং সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাছির উদ্দিন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মঞ্জুর মোর্শেদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক, জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, ইউট্যাব-জবি শাখার সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. নাছির আহমেদ, জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল, শহীদ শিশু আনাসের মা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিরাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।



