
৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রকৃতির সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য—‘প্রকৃতি থেকে প্রেরণা, জলবায়ুর জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য’।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরিবেশ রক্ষায় নিজেদের দায়িত্ব ও ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন তিতুমির কলেজ প্রতিনিধি মোঃ ইকরাম হাসান…
“প্রকৃতি মানবজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি শুধু একটি দিবস পালনের বিষয় নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরির একটি উদ্যোগ। প্রকৃতির ওপর নির্ভর করেই পৃথিবীর প্রতিটি জীব বেঁচে আছে। তাই আমাদেরও প্রকৃতিকে রক্ষা করার দায়িত্ব নিতে হবে। একটি গাছ আজ রোপণ করলে তা আগামী দিনের জন্য আশ্রয় ও অক্সিজেনের উৎস হয়ে উঠবে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। সবুজায়ন বাড়াতে হবে এবং সবাইকে পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে উৎসাহিত করতে হবে।”
সাউদ বিন জসিম সাজিদ
শিক্ষার্থী, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি
“বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করা। গাছপালা, নদী, পাহাড় ও বন্যপ্রাণী আমাদের পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দূষণের কারণে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তাই বেশি বেশি গাছ লাগানো, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব।”
স্বর্ণালী ইসলাম মিলি
শিক্ষার্থী, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ
“প্রকৃতি আমাদের সবচেয়ে বড় বন্ধু, অথচ আমরাই প্রতিনিয়ত এর ক্ষতি করছি। নদী, গাছ, বাতাস ও মাটি আমাদের জীবনকে টিকিয়ে রাখে। পরিবেশ দূষণের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে পরিবেশ রক্ষার শিক্ষা শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। একটি গাছ লাগানো, প্লাস্টিক বর্জন করা কিংবা পানি অপচয় রোধের মতো ছোট ছোট উদ্যোগও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।”
মো. হাসানুল বান্না রিয়ান
শিক্ষার্থী, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
আরও পড়ুনঃ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকীতে জবি ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ
“পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, প্রত্যেকেরই পরিবেশের প্রতি সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা, বৃক্ষরোপণ ও গাছের যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে আমরা পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারি। পানি ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ করতে হবে এবং পরিবেশ দূষণ কমানোর জন্য সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যদি সচেতন হয়, তাহলে সমাজেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”
মো. ইকরাম হাসান
শিক্ষার্থী, তিতুমীর কলেজ
“পরিবেশ দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখতে আমাদের প্রত্যেকের ভূমিকা রয়েছে। প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্বশীল আচরণই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে। শুধু দিবস পালন নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনযাপনে পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলাই প্রকৃত পরিবর্তনের পথ। বৃক্ষরোপণ, দূষণ কমানো, প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি সুন্দর ও সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব।”
তিথি সাহা
শিক্ষার্থী, কুমিল্লা সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ



