
দেশে চলতি এপ্রিল মাসে কোনো জ্বালানির সংকট হবে না বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৮ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে, যা দেশের সার্বিক চাহিদা পূরণে যথেষ্ট। সরকারের আশা, এপ্রিলজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে এবং বাজারে কোনো ঘাটতি তৈরি হবে না।
মজুত জ্বালানির মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে ডিজেলের মজুত রয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ মেট্রিক টন, যা মোট মজুতের প্রায় ৬৩ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যাপ্ত ডিজেল মজুত থাকায় কৃষি, পরিবহন ও শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এছাড়া অকটেনের মজুত রয়েছে ৯ হাজার ২১ মেট্রিক টন এবং পেট্রোলের মজুত ১২ হাজার ১৯৪ মেট্রিক টন। ব্যক্তিগত যানবাহন ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিনের চাহিদা পূরণে এ মজুত যথেষ্ট বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুনঃ হরমুজে বাংলাদেশি ৬ জাহাজের অনুমতি, তবে ৫টিরই চালান বাতিল
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে ৪১ হাজার ৮৭৬ মেট্রিক টন, ফার্নেস অয়েল ৫৮ হাজার ৭৩৬ মেট্রিক টন, কেরোসিন ৯ হাজার ৩৭৮ মেট্রিক টন এবং মেরিন ফুয়েল ১ হাজার ১৫৩ মেট্রিক টন। সব মিলিয়ে বর্তমান মজুত দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
মনির হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, ইরান থেকে হরমুজ প্রণালি হয়ে ছয়টি জাহাজ রওনা দিয়েছে, যার মধ্যে একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ রয়েছে। জাহাজটি দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির জ্বালানি সরবরাহেও কোনো সংকট থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বহুমুখী আমদানি উৎস সক্রিয় রেখেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



