― Advertisement ―

spot_img

আইটিইটি নির্বাচন: আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগকে ‘গঠনতন্ত্র পরিপন্থী নয়’ দাবি জিজি প্যানেলের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের অন্যতম বৃহৎ পেশাজীবী সংগঠন ‘ইন্সটিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস’ (আইটিইটি)-এর কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নির্বাচনী...
প্রচ্ছদশিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনক্যাম্পাসআইটিইটি নির্বাচন: আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগকে ‘গঠনতন্ত্র পরিপন্থী নয়’ দাবি জিজি প্যানেলের

আইটিইটি নির্বাচন: আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগকে ‘গঠনতন্ত্র পরিপন্থী নয়’ দাবি জিজি প্যানেলের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের অন্যতম বৃহৎ পেশাজীবী সংগঠন ‘ইন্সটিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস’ (আইটিইটি)-এর কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্যানেলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বক্তব্যে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা।

‘ইউনাইটেড কাউন্সিল (ঐক্যবদ্ধ টেক্সটাইল প্রকৌশলী পরিষদ)’ প্যানেলের পক্ষ থেকে ‘জিজি প্যানেল’-এর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অনৈতিক প্রচারণার অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ অমূলক, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরাম মনোনীত ‘জিজি প্যানেল’-এর প্রধান ও সভাপতি পদপ্রার্থী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোকে অজ্ঞতাপ্রসূত বলে মন্তব্য করেছেন আইটিইটির অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সদস্য সচিব এ.কে.এম. মহসিন আহমেদ।

ইউনাইটেড কাউন্সিল প্যানেলের অভিযোগপত্রে বলা হয়, আইটিইটির বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সদস্য সচিব এ.কে.এম. মহসিন আহমেদ জিজি প্যানেলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন এবং একই সঙ্গে ওই প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অনুমোদনপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। তাদের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তির এমন ভূমিকা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, আইটিইটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির দায়িত্ব মূলত নির্বাচন কার্যক্রম সম্পন্ন করা। এ ছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধির ৭.২ (i) ধারা অনুযায়ী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কিংবা তাদের অনুসারীদের নির্বাচনী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা নিষিদ্ধ থাকলেও জিজি প্যানেলের নির্বাচনী কার্যক্রমে ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে সংগঠনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ ও প্রতিদ্বন্দ্বী সব পক্ষকে তা সরবরাহের দাবি জানিয়েছে ইউনাইটেড কাউন্সিল।

অভিযোগের বিষয়ে ইউনাইটেড কাউন্সিল প্যানেলের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানানো হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাদের লিখিত আবেদন গ্রহণ করেছেন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে আইটিইটির অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সদস্য সচিব এ.কে.এম. মহসিন আহমেদ বলেন, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, সংগঠনের গঠনতন্ত্রে এমন কোনো বিধান নেই যে আহ্বায়ক কমিটিতে থাকা ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বা কোনো প্যানেলের প্রচারণা চালাতে পারবেন না।

তিনি আরও বলেন, যে নির্বাচন মনিটরিং কমিটির অনুমোদনের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে তিনি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরামের মহাসচিব হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন। অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিরপেক্ষতা নষ্ট করে—এমন দাবি সঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মহসিন আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আরও অনেক সদস্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এমনকি অভিযোগকারী প্যানেলেরও কয়েকজন প্রার্থী বর্তমান কমিটির দায়িত্বে রয়েছেন।

জিজি প্যানেলের প্রধান ও সভাপতি পদপ্রার্থী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন বলেন, আইটিইটির গঠনতন্ত্র বা নির্বাচনী আচরণবিধিতে আহ্বায়ক বা সদস্য সচিবের নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তাই এ ধরনের অভিযোগ গঠনতন্ত্র সম্পর্কে অজ্ঞতা কিংবা নির্বাচন কমিশনকে বিব্রত করার চেষ্টা ছাড়া কিছু নয়।

তিনি বলেন, একটি প্যানেলের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে নৈতিক অবস্থান থেকে তিনি নিজেই সদস্য সচিব পদ থেকে পদত্যাগ করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে বর্তমান কমিটির সদস্যদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইনগত বাধা নেই।

আরও পড়ুনঃ ছাত্রনেতা খোকনের গুম থেকে ফিরে আসা নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী

সানজিদা ইসলাম তুলীকে উপদেষ্টা পরিষদে রাখা নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে এনায়েত হোসেন বলেন, তাকে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, বরং একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার ও আইটিইটির আজীবন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পেশাগত জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতেই উপদেষ্টা পরিষদে তার নাম রাখা হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ প্যানেলের কিছু ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারণায় সরকার ও রাষ্ট্রীয় বিষয় টেনে এনে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছেন। আইটিইটি একটি পেশাজীবী সংগঠন হওয়ায় জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনায়েত হোসেন বলেন, তারা নির্বাচন কমিশনকে বিব্রত না করে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন। একই সঙ্গে সব প্রার্থী ও সমর্থকদের শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, আগামী ২৬ জুন আইটিইটির কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে ‘জিজি প্যানেল’ ও ‘ইউনাইটেড কাউন্সিল প্যানেল’-এর মধ্যে।