― Advertisement ―

spot_img

কাঁটাতারে আটকে হাতি, ভারতের সঙ্গে শিগগিরই সংলাপ

জায়েদ মাহমুদ রিজন, নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধিঃ শেরপুরের গারো পাহাড়ে বিচরণরত বন্যহাতির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ভারতের সঙ্গে শিগগিরই আন্তর্দেশীয় সংলাপ শুরু করা হবে বলে...
প্রচ্ছদসারা বাংলাকাঁটাতারে আটকে হাতি, ভারতের সঙ্গে শিগগিরই সংলাপ

কাঁটাতারে আটকে হাতি, ভারতের সঙ্গে শিগগিরই সংলাপ

জায়েদ মাহমুদ রিজন, নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধিঃ শেরপুরের গারো পাহাড়ে বিচরণরত বন্যহাতির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ভারতের সঙ্গে শিগগিরই আন্তর্দেশীয় সংলাপ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। আগের প্রটোকল অনুযায়ী এ সংলাপ শুরু হবে। পাশাপাশি সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে থাকা হাতিগুলোর নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পথ সুগম করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে গেট খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসন ও বন্যহাতি সংরক্ষণবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, মেঘালয় থেকে আসা প্রায় ১৩০ থেকে ১৩৫টি বন্যহাতি সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার কারণে নিজ দেশে ফিরতে পারছে না। ফলে হাতিগুলো শেরপুরের বনাঞ্চলে অবস্থান করছে। খাবার ও বিচরণক্ষেত্রের সংকটের কারণে বাড়ছে মানুষ-হাতির দ্বন্দ্ব। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শেরপুরের বনভূমিকে বন্যহাতির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বন্যহাতিকে কেন্দ্র করে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে মানুষ ও হাতির সংঘাত কমিয়ে আনাও সম্ভব হবে।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী এবং শেরপুরের পুলিশ সুপার এ.কে.এম জহিরুল ইসলাম।

স্বাগত বক্তব্যে ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম জানান, শেরপুরের বনাঞ্চলে বর্তমানে ১৩০ থেকে ১৪০টি বন্যহাতি বিচরণ করছে। হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং হাতি লোকালয়ে প্রবেশ করলে মানুষকে নিরাপদ রাখতে প্রতি দলে ১০ জন করে ৫৩টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি হাতির চলাচল পর্যবেক্ষণে ৪৫টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী বলেন, বন্যহাতি আপদ নয়, সম্পদ। মানুষ ও হাতির সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হাতির চলাচলের করিডর সংরক্ষণ এবং আন্তর্দেশীয় সংলাপ জরুরি। বন্যহাতিকে কেন্দ্র করে পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগানো গেলে স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে।

আরও পড়ুনঃ জবির দ্বিতীয় সমাবর্তনের নিবন্ধন শুরু ১৫ অক্টোবর, ফি নিয়ে অসন্তোষ

প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, শেরপুরের বনাঞ্চলের তুলনায় হাতির খাবার ও বিচরণক্ষেত্র কম। প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা হাতিগুলো ফিরে যেতে না পারায় মানুষ-হাতির সংঘাত বাড়ছে। এ পরিস্থিতির উন্নয়নে পরিকল্পিত হাতি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।

সভায় হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, লোকালয়ে প্রবেশের আগাম সতর্কতা, হাতির চলাচলের পথ ও আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার বিষয়ে আলোচনা হয়। হাতি লোকালয়ে প্রবেশ করলে আতঙ্কিত হয়ে তাড়া না করে প্রশিক্ষিত ইআরটি সদস্যদের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

সভা শেষে বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ জনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ১০টি ইআরটি দলের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রী মধুটিলা ইকোপার্ক ও নালিতাবাড়ী-ঝিনাইগাতীর হাতির বিচরণক্ষেত্র পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে একই বিষয়ে আয়োজিত আরেকটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।